মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকায় প্রধান সড়কে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ যানবাহনকে হাটুজল পানি ঠেলে সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি মেরামতের কার্যাদেশ থাকলেও দুই মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু নানা অযুহাতে কাজ শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠন। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এ সড়ক দিয়ে চলাচলে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে বছরের পর বছর এ সড়কের বেহাল দশা হলেও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদাসীন।
সম্প্রতি এ সড়ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলে স্থানীয় (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সাংসদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন প্রায় দেড় মাস আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীর নির্দেশের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই সড়কের কাজ শুরু করেনি।
সরেজমিনে জুড়ীর ভবানীগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ভবানীগঞ্জ বাজারের নিউমার্কেট থেকে ক্লাব রোডের আব্দুল আজিজ মেডিক্যাল হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। অথচ এ সড়ক দিয়ে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী, পূর্ব জুড়ী, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বাজার এলাকায় বার বার পুরাতন ইট তুলে নতুন ইট দিয়ে সলিং করা হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ দিন থেকে জুড়ী ভবানীগঞ্জ বাজারের কলেজ রোডের বেহাল দশা। সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন, পথচারী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। এখানে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেন থাকলেও তা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে পানি সরানোর পথ বিভিন্নভাবে ভরাট করে ফেলেছেন। যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এ সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। হাটু সমান পানিতে কাপড় ভিজিয়ে লোকজন যাতায়াত করেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জুড়ী নাইট চৌমুহনী থেকে ক্লাব রোড পর্যন্ত ১৩২০ মিটার সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজের টেন্ডার পেয়েছে সিলেটের মেসার্স হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড। তা-ছাড়া এই সড়কের পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন অংশে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। গত বছর এই প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। কার্যাদেশ হয়েছে গত দুই মাস আগে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটার জামিল ইকবাল শনিবার (১৪ মে) বিকালে মুঠোফোনে বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ সড়কের কাজ শুরু করার জন্য সব সরঞ্জাম ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু হবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জুড়ী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে সড়কের কাজের কার্যাদেশও হয়ে গেছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বাজারের ভেতরের অংশে কাজ শুরু করে ফেলে রাখা যাবে না। তাই বৃষ্টি কমলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘এ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা পেয়েছি। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’