স্বেচ্ছায় পরিবার থেকে আড়ালে থাকার দীর্ঘ ৩২ বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরেছেন জোয়াদ মিয়া (৮০)। রেখে যাওয়া তার ছোট ছোট ৫ সন্তান এখন পরিণত বয়সে পৌঁছে গেছেন। তরুণ স্ত্রী রেজিয়া খাতুনও একজন বৃদ্ধা নারী। জোয়াদ মিয়ার চোখে বদলে গেছে গ্রাম, রাস্তাঘাট ও পরিবেশ। ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের নিভিয়াঘাটা গ্রামের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জোয়াদ মিয়া নিভিয়াঘাটা গ্রামের একজন সচ্ছল মানুষ ছিলেন। তিনি ৩২ বছর আগে কিছু জমিজমা বিক্রি করে টাকা-পয়সা সঙ্গে নিয়ে নাবালক ৫ সন্তান ও স্ত্রী রেখে স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন।
এই দীর্ঘ সময়ে তার পরিবার পরিজন কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে ধরে নিয়েছিল তিনি আর বেঁচে নেই। বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই বাড়ি আসতেন, ন্যূনতম চিঠিপত্রসহ যে কোনোভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ফলে সন্তানরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্য কাগজপত্রে পিতাকে মৃত জোয়াদ মিয়া হিসেবে লিখেছেন।
গত ৮ মে জোয়াদ মিয়া ট্রেনে করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার গ্রাম থেকে মো. আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় নান্দাইলের নিভিয়াঘাটা গ্রামের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। তাকে দেখে স্ত্রী, সন্তানসহ আশেপাশের লোকজন অবাক। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় আত্মীয়স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন জোয়াদ মিয়াকে দেখতে বাড়িতে এসে ভিড় করছেন।
জোয়াদ মিয়ার সঙ্গে আসা মো. আতাউর রহমান এলাকাবাসীকে জানান, তিনি জোয়াদ মিয়ার মেয়ের জামাতা। জোয়াদ মিয়া কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার গ্রামে বসবাস করার সময় সেখানে একটি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। তারপর ঘরজামাই হিসেবে সেখানে তিনি একটি বিয়ে করেন। সেই সংসারে দুই ছেলে ও ছয় মেয়ের বাবা হন তিনি। ইতোমধ্যে ৪ মেয়ের বিয়েও হয়েছে।
অসুস্থ জোয়াদ মিয়া এখন কম কথা বলেন। তিনি জানান, তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে গিয়েছিল। আগে বিয়ে করেছেন কিনা একথা তার মনে ছিল না। কিছু দিন আগে হঠাৎ নান্দাইল তার বাড়ি, স্ত্রী, সন্তানদের কথা মনে পড়ে। এ কথা সেখানে সবাইকে জানালে মেয়ের জামাই তাকে নান্দাইলের বাড়িতে এসে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। তিনি এখন দুই সংসারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে সবার সঙ্গে থাকতে চান।
জোয়াদ মিয়ার প্রথম পক্ষের সন্তান পোশাক শ্রমিক মো. লিটন মিয়া (৪০) বলেন, ‘আমার বাবা যখন চলে গিয়েছিলেন, তখন আমার বয়স ছিল ৮ বছর। বাবাকে পেয়ে আমরা খুশি আছি। তিনি যেভাবেই হোক অসুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে বেশি মানসিক চাপ দিতে চাই না, যাতে করে আবার তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন।’
স্থানীয়রা বলেন, আমরা তাকে দেখে চিনতে পেরেছি। ঘটনা যাই হোক তিনি এত দিন পর ফিরে এসেছেন, এটাই বড় কথা।