মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শিবচরের এসিল্যান্ড আল নোমান

মানবিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অত্যন্ত সদালাপী শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসিল্যান্ড) আল নোমান। এভাবে সবাই এগিয়ে আসলে হয়তো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমই হতো। 

গত ৪ জুন মঙ্গলবার ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ঈদের ডিউটি শেষ করে শিবচর উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেন এসিল্যান্ড আল নোমান। ঢাকা-বরিশাল হাইওয়ের শিবচর উপজেলার বাখরের কাঁন্দি নামক এলাকায় পৌঁছালে দেখতে পান যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার (স্থানীয় যান) সঙ্গে নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা। সংঘর্ষে যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রে থাকা মামা চাঁনমিয়া (২০) ও তার দুই ভাগ্নে সাচ্চু ও নাঈম গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে রয়েছেন। তাৎক্ষণিক তিনি সরকারি গাড়ি থেকে নেমে তাদেরকে তার গাড়িতে উঠিয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মামা চাঁনমিয়াকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত দুই ভাগ্নে সাচ্চু ও নাঈমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নাঈমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিয়ে বিকালে ছুটে যান ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তাকে ভর্তি করে তার পাশে বসে থাকেন এসিল্যান্ড। ঈদের আমেজ ছিল সব জায়গায়। এক্স-রে করাতে বাইরের এক ক্লিনিকে নাঈমকে নিয়ে গেলে দেখেন টেকনোলজিস্ট নেই। ফামের্সিতে ওষুধ কিনতে গিয়ে দেখেন সাপ্লাই নেই। অনেক দৌড়-ঝাঁপের পরে নাঈম এখন আশঙ্কামুক্ত। এমন কাজে আজ ফরিদপুরসহ সারা শিবচরে মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে এসিল্যান্ড আল নোমানের মানবিকতার পরিচয়ের কথা। নিহত চাঁন মিয়া ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের মো. ছোরহাব মিয়ার ছেলে। 

আরো পড়ুন: সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান ওবায়দুল কাদেরের

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল নোমান বলেন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারলে নিজের কাজে খুব শান্তি লাগে। আমি নাঈমকে গুরুতর অবস্থায় দেখতে পেয়ে ওকে নিয়েই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। ওর অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভাল। ওর চিকিৎসা চলছে।

ইত্তেফাক/এমআই