নীলফামারীতে ভালো ফলনেও লোকসানে কৃষক  

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ধানক্ষেত ও ভুট্টাক্ষেতে পানি জমে থাকায় জমিতেই পাকা ভুট্টা ও ধান পচে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পানিতে নিমজ্জিত ধান কাটতে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। শ্রমিক পাওয়া গেলেও শ্রমিকরা শুধু ধানের আগা কেটে নিয়ে আসছে। এতে করে গরুর খাবারের চরম সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে রবি মৌসুমে ধান ও ভুট্টার ফলন ভাল হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লোকসান গুনছেন কৃষক।  

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে ধান এবং ৩২৫৬ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছিল। শুরু থেকে আবহাওয়া  ভাল থাকায় ধান ও ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করেছিল কৃষক ও কৃষি বিভাগ। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে অশনির প্রভাবে গত ১৫ থেকে ২০ দিন যাবত টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকের ধান ও ভুট্টাক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এতে করে শত শত হেক্টর জমির ধান ও ভুট্টাক্ষেতে পানি জমে থাকায় ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে।   

উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের কৃষক আমজান হোসেন বলেন, আমি এবার ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ধানের ফলনও হয়েছিলো ভালো কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে আমার জমির ধানক্ষেতে পানি জমে যায়। বাধ্য হয়ে ৫ শ টাকা দরে শ্রমিক নিয়ে শুধু জমির ধানক্ষেতের আগা কেটে নিয়েছি। জমিতে পানি জমে থাকার কারণে ধানক্ষেত গোঁড়া থেকে কাটতে না পারার কারণে গোখাদ্যের সংকটে ভুগছি। 

দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের ভুট্টাচাষী ময়নুল ইসলাম জানান, আমি এবার ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। বর্তমানে ভুট্টার বাজার দর প্রতিমন ৯৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ঝড়ের কারণে আমার জমির ভুট্টাক্ষেত অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে গেছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে গত দু-সপ্তাহ ধরে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বর্তমানে কিছু কিছু জায়গায় কৃষকরা জমির আধপাকা ধানক্ষেত কেটে নিলেও বেশির ভাগ ধান ও ভুট্টাক্ষেত জমিতে রয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। দু একদিনের মাঝে আবহাওয়া ভাল না হলে আরো বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে কৃষকরা।