সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ গ্রাহক

শিল্প ও বাণিজ্য শহর নীলফামারীর সৈয়দপুরে সারা দিনে ১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ সৈয়দপুর বণিক সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী এমন কথা বলেছেন। গত এপ্রিল থেকে সৈয়দপুরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। এতে শিল্প-কারখানায় ৭০ ভাগ উৎপাদন কমেছে বলে দাবি শিল্প মালিক ও উদ্যোক্তাদের। এছাড়া শহরের এলএসডি গোডাউন এলাকায় বিপজ্জনকভাবে ট্রান্সফরমার মাটিতে রাখায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লোকজন।

বণিক সমিতির সভাপতি জানান, সারা দিন বিদ্যুৎ আসে আর যায়। এতে স্থানীয় শিল্প কারখানায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের আসা যাওয়ায় অনেক কারখানায় বৈদ্যুতিক মোটর জ্বলে যাচ্ছে। ফলে গচ্চা দিতে হচ্ছে শিল্প মালিকদের। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দোকান ও মার্কেটগুলোর ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জেনারেটর ও আইপিএস নির্ভর হয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসার ব্যয় বাড়ছে।

সৈয়দপুর রাবেয়া মোড় এলাকায় অবস্থিত ইকু পেপার মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুল আলম জানান, গত এপ্রিল মাস থেকে এই অঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট চলছে। দিনে কমপক্ষে ১১/১২ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। ফলে পেপার মিলের মেশিন চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭০ ভাগ। গত এক মাসে ইলেকট্রিসিটি আসা-যাওয়ার কারণে মিলের অনেক মেশিন নষ্ট হয়েছে। সৈয়দপুরের নিয়ামতপুর এলাকায় অবস্থিত নোয়াহ্ ব্রান্ডের প্রেশারকুকার ও ননস্টিক তৈজসপত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েল্যাক্স মেটাল ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রাজকুমার পোদ্দার জানান, আমার কারখানার ১০টি মোটর পুড়ে গেছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে চরমভাবে। তিনি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।

উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটে গতকাল সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মার্কেটটি অন্ধকারে নিমজ্জিত। কোনো কোনো শোরুমে জেনারেটর চললেও বেশির ভাগ দোকানে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। অন্ধকার মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় নেই বললেই চলে। মার্কেটের বুলবুল ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বুলবুল জানান, সৈয়দপুরে কেন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা উচিত। একই মার্কেটের নারী উদ্যোক্তা ও পিন্ধনের স্বত্বাধিকারী আহমেদা ইয়াসমিন ইলা জানান, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এছাড়া সৈয়দপুর হচ্ছে শতভাগ বিদ্যুত্ঘোষিত এলাকা।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে সামান্যতম ব্যাঘাত ঘটলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়ো বাতাসে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য আমরা নিরাপত্তার জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ করে থাকি। এখন দুর্যোগ নেই তবুও বিদ্যুৎ বিভ্রাট কেন প্রশ্নটি তিনি এড়িয়ে যান।