কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: প্রার্থীদের করোনাকালের ভূমিকা ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোটের মাঠে ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। প্রার্থীদের গণসংযোগ, স্লোগান, প্রতিশ্রুতি, অভিযোগ আর পালটা অভিযোগে সরব হয়ে উঠছে নগরী। এক্ষেত্রে মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। তবে বাগ্যুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী নতুন মুখের প্রার্থীরা।

তারা এ সিটি প্রতিষ্ঠার পর গত দুই মেয়াদে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে থাকা ও তৃতীয় বারের মতো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রতিদ্বন্দ্বীদের টার্গেট করে গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও প্রচারণায় এলাকার উন্নয়নে ব্যর্থতা ও নাগরিক সেবাবঞ্চনার নানা বিষয় তুলে ধরে নগরীর উন্নয়নে নিজেদের কর্মপরিকল্পনার কথা ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবার প্রার্থীদের করোনাকালের ভূমিকার বিষয়টি ভোটের মাঠে নয়া মেরূকরণের সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন নগরীর বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার নগরীর অন্তত চারটি ওয়ার্ড এলাকার ২৬ জন সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা হলে তারা এমনই মত প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, করোনাকালে ও লকডাউনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যারা গিয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন—এমন বিষয়গুলো মাথায় রেখেই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সেই আন্তরিকতার ‘পুরস্কার’ দেবেন।

ভোটারদের অনেকে বলছেন, করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাশ দাফনে কাউন্সিলরদের যারা এগিয়ে এসেছিলেন, তাদেরকে ভোট না দিলে তা হবে মানবিকতার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। ভোটাররা বলছেন, লাশ দাফনের পাশাপাশি ত্রাণকাজে ব্যাপকভাবে নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন যেসব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, তাদেরকেও ভোট দিতে হবে। নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ময়নাল হোসেন, আবদুল আউয়াল, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আমেনা বেগম, আবদুল খালেকসহ বেশ কয়েক জন জানিয়েছেন, করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ দিয়েছেন এখানকার কাউন্সিলর।

প্রার্থীদের প্রচারণা ও অভিযোগ-পালটা অভিযোগে সরব ভোটের মাঠ

মঙ্গলবার নির্বাচনি প্রচারণার ৫ম দিনে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদে ১৪২ জন প্রার্থী নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। পৃথক গণসংযোগ ও পথসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি) অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, মাইক ভেঙে ফেলা হচ্ছে। নির্বাচনি মাঠে সমান সুযোগ নেই, আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি, প্রতিকার পাইনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার সব পোস্টার ছিঁড়ে ফেলুক, মাইক সব ভেঙে ফেলুক, আমি কিছু বলব না। এটা দেখার দায়িত্ব যাদের (নির্বাচন কমিশন) তারা কি এগুলো দেখছে না? তবে নগরবাসী সব দেখছে। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারের (ঘোড়া) অভিযোগ, যেখানে তার পোস্টার ও ব্যানার ছিল সেগুলো ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে নৌকা মার্কার পোস্টার ব্যানার লাগানো হয়েছে। তবে স্বতন্ত্র এই দুই প্রার্থীর এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার পোস্টারও ছিঁড়ে পড়ে আছে, আমি তো এ ব্যাপারে কাউকে দায়ী করিনি। তারা নৌকার জোয়ার দেখে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

গণসংযোগ-পথসভা

আরফানুল হক রিফাত (নৌকা) : মঙ্গলবার সকাল থেকে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ও তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ কর্মীরা নগরীর দক্ষিণ চর্থা বড়পুকুরপাড়, কাশারিপট্টি, ভূঁইয়া পুকুরপাড়, নূরপুর, রবিদাশ পাড়া, ডুমুরিয়া, গোয়ালমথন, আরকো চৌমুহনী, কমলাপুর, মফিজাবাদ কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক করেন।

মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি) : মঙ্গলবার সকালে প্রচারণায় নামেন সদ্য সাবেক দুবারের মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। তিনি নগরীর কান্দিরপাড়, বাদুরতলা, ঝাউতলা, পুলিশ লাইন, রেইসকোর্স, স্টেশন রোড, অশোকতলা, বাগিচাগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেন।

নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া) : তিনি মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর রামঘাটলা, কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, বাদুরতলা, বাদশা মিয়ার বাজার, শাসনগাছাসহ দিনভর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করেন।

কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ) : তিনি নগরীর মনোহরপুর, রাজগঞ্জ ও চকবাজার এলাকায় কর্মী-সমর্থদের নিয়ে নগরীর উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতির লিফলেট বিতরণসহ প্রচারণা চালান।

লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বিষয়ে বিকালে সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছেন। কিছু লিখিত, কিছু মৌখিক অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। অভিযোগ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রার্থীদের কাছে আমার আহ্বান, তারা যেন নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালান।