ফুটবলের জনপ্রিয়তা পুরো বিশ্ব ছড়িয়ে গেলেও এর ফুসফুস হলো ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা। কে কার চেয়ে এগিয়ে, এনিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। ক্লাব ফুটবলের কারণে ইউরোপিয়ানরা এগিয়ে থাকলেও আন্তর্জাতিকভাবে পিছিয়ে নেই লাতিন আমেরিকার ফুটবল। তর্ক-বিতর্ক ফেলে ভক্তদের অপেক্ষা এখন মাঠের লড়াই দেখার। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের সেই লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইতালি ও আর্জেন্টিনা।
২৯ বছর পর আবারও একে অপরের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন দল ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দল। ফাইনালিসিমা নামেই তা স্বীকৃতি পেলো। আর্জেন্টিনার জন্য এটি অবশ্য দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা। ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় আসরে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল তারা। ১৯৮৫ সালে প্রথম আসরে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স।
সেই হিসেবে এবারই প্রথম খেলতে নামছে ইতালি। গত বছর ইউরোতে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য ছিল তারা। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রবের্তো মানচিনির দল। কিন্তু সেই তারাই আবার নাম লেখাতে ব্যর্থ হয় কাতার বিশ্বকাপে। সেই আক্ষেপ এখনো পুড়াচ্ছে অধিনায়ক জর্জিও কিয়েল্লিনিকে। ইতালির জার্সি গায়ে আজই নিজের শেষ ম্যাচটা খেলবেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। কাতার বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে হয়তো সেখানেই ক্যারিয়ারের ইতি টানতেন তিনি।
সেই সুযোগটা পাচ্ছেন লিওনেল মেসি। যদিও অবসরের ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে সম্ভাবনার মাত্রাটা তীব্র। গত বছর কোপা আমেরিকায় প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার হয়ে কোনো ট্রফি যেতেন এই ফরোয়ার্ড। আলবিসেলেস্তারাও ঘোচায় তাদের ২৯ বছরের ট্রফি খরা।
ফাইনালিসিমার আগে ইতালিকে নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং কাতারে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হতো। আমাদের জন্য দারুণ এক পরীক্ষা হবে। আশা করি, ভালো কিছুই করতে পারব।’