নোয়াখালীর চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে ঐ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মানববন্ধন করেছেন।
বুধবার (০১ জুন) উপজেলা পরিষদ মাঠে মানবন্ধনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন জানান, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমরান হোসেন বাংলায় মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। অথচ তিনি শ্রেণী কক্ষে গণিত বিষয়ে পাঠদান দিতে গিয়ে ভুল সমাধান করেন এবং নোটবুক দেখে গণিতের সমাধান করেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ (স্মারক লিপি) দায়ের করে দ্রুত তাকে অপসারণের দাবি জানান।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগনের অভিযোগে জানা গেছে, গত এক বছর থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্ব পালন থেকে তিনি বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের ফোন করে শিক্ষার্থীদের তার কাছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কোন প্রধান শিক্ষক প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারেন না। তার কাছে যেসব শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে পরীক্ষার আগে তাদের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেন এবং খাতায় নাম্বার বেশি দিয়ে থাকেন। অন্য দিকে যারা তার কাছে প্রাইভেট পড়ে না তাদের খাতায় নাম্বার কম দিয়ে ফেল করিয়ে দেন। এছাড়াও প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রেণী কক্ষে অশোভন আচরণ করেন। তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরীক্ষার্থীদের থেকে বাড়তি টাকা আদায় করেন এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাকে দ্রুত অপসারণ করে একজন প্রধান শিক্ষক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম মোসার বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে অপসারণের দাবীতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন মানববন্ধন করে তার নিকট স্মারক লিপি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।