দীর্ঘ ৫৭ বছর পর আজ আসলো মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন

দীর্ঘ ৫৭ বছর প্রতীক্ষার পর অবশেষে বুধবার (১ জুন) ভারতের পশ্চিমবাংলার শিলিগুড়ি শহরের নিউ জলপাইগুড়ি (এনজিপি) স্টেশন হতে চিলাহাটি স্টেশনে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন আসে। দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি দুপুর ২টা ১০ মিনিটে চিলাহাটি স্টেশনে এসে পৌঁছে। ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টমেন্টের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় ট্রেনটি।

দীর্ঘ আন্দোলনের পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও চিলাহাটি স্টেশনে যাত্রী উঠা-নামার ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের এলাকার মানুষের খুব বেশি একটা সুবিধা হবে না । তাই চিলাহাটিসহ গোটা জেলার মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনার চেয়ে হতাশা বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। এলাকাবাসী চিলাহাটি স্টেশনে ইমিগ্রেশনসহ যাত্রী উঠা-নামার দাবী করছেন। 

চিলাহাটি স্টেশন মাস্টার রুহুল আমিন বলেন, মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনে থাকছে ১০টি তাপানুকূল কোচ। এর মধ্যে চারটি করে মোট আটটি এসি ফার্স্ট ক্লাস ও এসি চেয়ারকার কোচ থাকবে। বাকি দুটি জেনারেটর ও ব্রেকআপ ভ্যান থাকবে। এসি বাথের জন্য নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত ভ্রমণকরসহ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৯০৫ টাকা, এসি চেয়ারকারের ভাড়া ৩ হাজার ৮০৫ টাকা। ৫ বছর পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মূল ভাড়ার ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে বাংলাদেশ অংশে ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম স্টেশনে। ভারতের অংশে টিকিট মিলবে কলকাতার ফেয়ারলি প্যালেস ও নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত মিতালী এক্সপ্রেসের রেলপথ দূরত্ব ৫৯৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের অংশে ৬৯ কিলোমিটার।

ট্রেনটি দিনের বেলা ৪৫৬ আসন নিয়ে এবং রাতে ৪০৮ আসন নিয়ে চলাচল করবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে হলদিবাড়ী হয়ে নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত পার হবে মিতালী। এরপর বাংলাদেশের চিলাহাটি, নীলফামারী, পার্বতীপুর, হিলি, সান্তাহার, নাটোর, ঈশ্বরদী বাইপাস ও বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে। একইভাবে ট্রেনটি নিউজলপাইগুড়ি পৌঁছাবে।  

তিনি আরও বলেন, এ পথে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের আয়ের বাংলাদেশের রেলওয়ে বিভাগ ৮০ শতাংশ আর ২০ শতাংশ পাবে ভারতীয় রেলওয়ে বিভাগ পাবে।  

পশ্চিমাঞ্চল রেলের জিএম অসিম কুমার তালুকদার বলেন, আজ শুরু হলো মাত্র ১২ জন যাত্রী নিয়ে। তবে ভারতের সেভেন সিস্টারসহ ভুটান ও নেপালে যাতায়াতের জন্য এই ট্রেনটি সহায়ক হবে। আর দার্জিলিং ভ্রমণে পর্যটকদের সুবিধা হবে। হয়তো আগামী এক মাসের মধ্যে ৪০৮ টি আসনেই যাত্রী থাকবে। কিছু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেই চিলাহাটি স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামার ব্যবস্থাও করা হবে।  

চিলাহাটি এলাকার বাসিন্দা লিটন ইসলাম বলেন, চিলাহাটি থেকে চিকিৎসার জন্য আগে বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী দিয়ে আমরা ভারতে যেতাম। এতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় নষ্ট হতো। এ জন্য আমরা চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল পথটি পুনরায় চালুর জন্য দীর্ঘ দিন হতে আন্দোলন করছি। অবশেষে আমাদের আন্দোলন সফলও হলো। তবে আমরা এর কোন সুফল পাচ্ছি  না। তিনি চিলাহাটি স্টেশনে ইমিগ্রেশন ও যাত্রী ওঠা-নামার দাবী জানান।

আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে আগে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আজ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনও চলাচল শুরু হলো। এটা খুবই খুশির খবর। আমরা ব্যবসায়ীরা এ পথে ভারত হতে অনেক পণ্য নিয়ে আসি। তবে ভারতের ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের যোগাযোগের জন্য মাঝে মধ্যে ভারতে যেতে হয়। এ পথে ভারতে যেতে চাইলে, আমাদের ঢাকায় গিয়ে টিকেট কেটে সেখান হতে উঠতে হবে। এতে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি খরচ হবে জরুরি প্রয়োজনে আমরা দ্রুত যেতে পারবো না।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাংলাদেশের চিলাহাটি আর ভারতের হলদিবাড়ি পথে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মালবাহী ট্রেন এবং ২০২১ সালের ২৭ মার্চ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর থেকে মালবাহী ট্রেন চলাচল করলেও করোনা ভাইরাস ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে যায় যাত্রীবাহী ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল।