পাবনা জেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে বেসরকারি, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস মানবকল্যাণ ট্রাস্ট-এএএবিএমকেটি (এবি ট্রাস্ট)। ২০০৭ সালের ১৩ই নভেম্বর নিবন্ধিত হলেও বেশ আগে থেকেই সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে এবি ট্রাস্ট।
শুরুতে শিক্ষা এবং কিছু সামাজিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে সামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে রাস্তাঘাট মেরামত, বৃক্ষরোপণ, সুপেয় পানির জন্য গরিবের বাড়ির আঙিনায় টিউবওয়েল স্থাপন, বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়ণ অবকাঠামো নির্মাণ, গরিবদের জন্য বাড়ি নির্মাণ, কর্মহীনদের মাঝে রিকশাভ্যান বিতরণ, মসজিদ-মন্দির-গির্জাভিত্তিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠার মতো কার্যক্রম শুরু করে এবি ট্রাস্ট। এলাকায় লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, শ্রমিকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কার্যক্রম পরিচালনার ফলে সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের জীবনযাপনের নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়ন সম্ভব হয়। বর্তমানে ট্রাস্টটি পাবনায় বহুমুখী উন্নয়নমূলক ব্যাপক কর্মসূচি সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। ট্রাস্টের অধীনে বর্তমানে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট, একটি কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, একটি ডিগ্রি কলেজ, একটি কওমি মাদরাসা, একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এগুলোতে বর্তমানে দু’হাজারের বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছ। ট্রাস্টটি কর্মসংস্থানমুখী আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।
এবি ট্রাস্ট পাবনা শহরের পুরান কুটিপাড়া সংলগ্ন এলাকার গরিব মানুষের সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০০১ সালে প্রায় ৫.৫০ একর জায়গা প্রদান করে। ওই জমিতে প্রাইমারি স্কুল, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, ডিগ্রি কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও পাঠাগার নির্মাণ করা হয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এছাড়া ট্রাস্ট পাবনা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে প্রায় ৪০ একর জায়গা দান করে। এ স্থানেও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে। এছাড়া এবি ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে প্রায় অর্ধশত মাদরাসা, এতিমখানা, হেফজখানা ও মসজিদ নির্মিত হয়েছে।
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি ও তার পরিবার মানুষের পাশে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ সামাজিক কার্যক্রম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’