মুশফিকের পাশেই আছেন মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোটার, ওভাল (লন্ডন) থেকে

ওভালে বুধবারের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি বড় ভুল করেছিলেন মুশফিক। ব্যাট হাতে নিজে যেমন আচমকা রান আউট হয়েছেন। আবার উইকেট কিপার হিসাবে প্রতিপক্ষের একজনকে রান আউট করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তাই ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনে অনেকটা সময় জুড়েই থাকলেন মুশি।

অধিনায়ক অবশ্য কথা বললেন মুশফিকের পক্ষেই। বললেন, ‘মুশফিককে নিয়ে এ মুহূর্তে বলার দরকার দেখি না। ভুল যে কারো ক্ষেত্রেই হতে পারত। মুশফিক একটা সরাসরি থ্রো ধরতে গিয়েছিল। কিপার হিসাবে ওটা ধরা ছিল কঠিন। বলটা ধরতে গিয়ে হঠাত্ তার কনুই লেগে উইকেট ভেঙে যায়। মাঠে এ ধরনের ভুল হয়েই থাকে।’

অধিনায়ক বলেন, ‘এমনতো না যে মুশফিক এ জীবনে প্রথম ভুল করেছে। এটা সব প্লেয়ারের ক্ষেত্রেই হয়। একটা সহজ ক্যাচ ড্রপ হতে পারে। যেমন প্রথম ম্যাচে সৌম্যর হাত থেকে একটা ক্যাচ পড়ে গেছে। সৌম্য এর আগে অনেক কঠিন ক্যাচও ধরেছে। আমরা এখানে কাউকে ব্লেম করতে আসিনি। আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে এসেছি। আমি নিশ্চিত যে মুশফিকও এটা জানে। উইকেট ভেঙে ফেলার ভুলটা হওয়ার পর মুশি রস টেলরের যে ক্যাচটা ধরেছে বা গ্র্যান্ডহ্যামের যে ক্যাচটা ধরেছে ওইটাও ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারত। আমার কাছে মনে হয় মুশির ওপর চাপ সৃষ্টি করা কারো উচিত না। পরের ম্যাচে দেখা যাবে সব ঠিক হয়ে গেছে।’

মাশরাফি বলেন, এর আগে ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ‘আমার কাছে মনে হয় বড় ভুলটা হয়েছে আমাদের ব্যাটিংয়ে। একটু সেট হওয়ার পরই আউট হয়ে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। সবাই যদি ২৫ থেকে ৩০ করতে পারত তাহলে চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত। আবার রানটাও এসেছে অনেক ধীরে। প্রথম ম্যাচে আমরা যেরকম উইকেটে খেলেছিলাম এটাও ছিল একই ধরনের। এ ধরনের উইকেটে ২৪৪ রান রক্ষা করা কঠিন। আমরা অনেক কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। আরো কিছু রান হতে পারত। তবে আমরা খারাপ খেলিনি। এ ম্যাচে আমাদের অনেক পজিটিভ দিক আছে। সেগুলো পরের ম্যাচে কাজে লাগবে। আমাদের পার্টনারশিপ হয়েছিল কিন্তু তারা বেশি দূর যেতে পারেনি। পরের ম্যাচে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।’

ইংল্যান্ডকে কঠিন প্রতিপক্ষ উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘তাদের সাথে কাজটা খুব সহজ হবে না। আমাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। বিশ্বকাপে স্পিনটাই বাংলাদেশের বড় শক্তি হতে যাচ্ছে কিনা। ওভালে স্পিন সহায়ক হয়েছে। কার্ডিফেও হয়তো বা কিছুটা স্পিন উইকেট হবে। যতগুলো ম্যাচ খেলেছি সেখানে দেখেছি স্পিন কিছুটা সাহায্য করে। আমাদের প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে স্পিনারদের সুযোগ বেশি আছে। এরপরের ম্যাচগুলোতে কারা সুবিধা পাবে সেটা আমি নিশ্চিত না। আমরা ওইসব উইকেটে খেলিনি। প্রথম দুই ম্যাচে স্পিনারদের বল কিছুটা গ্রিপ করছিল।’

ম্যাচ হারলেও ফাইটিং স্পিরিটটাই কি বাংলাদেশ টিমের বড় শক্তি? জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘মাঠে আমাদের শরীরের ভাষা যেন ঠিক থাকে। এটার ব্যাপারে আমাদের একটু ঘাটতি রয়েছে। আজকে যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল শেষের দিকে কিন্তু আমরা ফিফটি ফিফটি ছিলাম। দুই বলে দুটা উইকেট পড়লে হয়তো আমরা ১৫ রানে ম্যাচটা জিততে পারতাম। ভাগ্যেরও দরকার হয়। সবসময় ভালো খেললেই হয় না।’