লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত ছেলে। ভর্তি আছেন আইসিইউ-তে। বাবার কাছে জীবনের শেষ ইচ্ছা হিসেবে পদ্মা সেতু দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। ছেলের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ছেলেকে পদ্মা সেতু দেখাতে নিয়ে গেলেন বাবা। বুধবার (১ জুন) এমনই এক আবেগঘন ঘটনাই ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এ আবেগঘন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ
তিনি লিখেছেন, “হয়তো তার কাছে শেষবারের মতো বেঁচে থাকার প্রেরণার কারণও হতে পারে শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এই পদ্মা সেতু।”
প্রতিমন্ত্রী লেখেন, “হ্যাঁ, পদ্মা সেতু দেখা জীবনের শেষ ইচ্ছা-এমন আবেগঘন ঘটনাই ঘটেছে। গত বুধবার লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে থাকা এক তরুণ তার পিতার কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে পদ্মা সেতু দেখার। কারণ আপনার-আমার মতো সেও সংবাদে দেখেছে, বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক স্থাপনার সেতু হিসেবে নান্দনিক সৌন্দর্যের আলোকরশ্মি ছড়ানো ‘পদ্মাসেতু’ চালু হচ্ছে শিগগিরই। কিন্তু ততদিনে জীবনের আলো নিভে যেতে পারে তার। হাসপাতালের আইসিইউতে শুয়ে মুমূর্ষু সন্তান তাই বাবা-মার কাছে শেষ আবদার হিসেবে বলেছে, মৃত্যুর আগে নিজের চোখে পদ্মা সেতু দেখতে চায় সে।”
নসরুল হামিদ লেখেন, “সন্তানের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য আইসিইউ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন পিতা। এরপর সেই অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে নিয়ে যান পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে। অ্যাম্বুলেন্সে শুয়েই পদ্মা সেতু দেখলো অসুস্থ ছেলেটি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কী বলবেন এই ঘটনাটিকে? শুধুই কী কোনো তরুণের অন্তিম ইচ্ছা? নাকি গর্বিত বাংলাদেশকে দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা? হয়তো তার কাছে শেষবারের মতো বেঁচে থাকার প্রেরণার কারণও হতে পারে শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এই পদ্মা সেতু।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “এই সেতু বাঙালি জাতিকে যেভাবে বিশ্বের বুকে গর্বিত করেছে, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে, জুগিয়েছে সাহস ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়; ঠিক তেমনি আজ প্রতিটি সচেতন মানুষের মনে দৃপ্ত সাহস সঞ্চার করে এবং শত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জয়ী হওয়ার অনুপ্রেরণার প্রতীকেও পরিণত হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। জয় বাংলা”