স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারদের ভুল নতুন কিছু নয়। তবে, অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে যা হলো— তা রীতিমতো দৃষ্টিকটু ব্যাপার। ক্রিস গেইল যে বলটাতে ফ্রি হিট পান, সেটাতেই তাকে আউট হয়ে ফিরতে হয় সাজঘরে।
এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন আম্পার ক্রিস গ্যাফানি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, বিশেষ করে ক্রিস গেইলের বিপক্ষে তিনি লাগাতার ভুল করেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই তার দুবার ভুল হয়, যদিও দুই দফাতেই ডি আর এসের সুবাদে বেঁচে যান তিনি।
তবে, গ্যাফানি এখানেই থামেননি। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে গেইলকে আবারো আউট দেন। এবারো ডি আর এসের দ্বারস্থ হন গেইল। এবার অবশ্য দেখা যায় তিনি আউটই ছিলেন। তবে, গোল বাধে অন্য জায়গায়।
ঠিক আগের ডেলিভারিটাতেই ওভার স্টেপিংয়ের কারণে বিশাল একটা নো-বল করেন স্টার্ক। এই ব্যাপারটা আম্পায়ার গ্যাফানির দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। যদি, এই বলটাকে ‘নো’ ঘোষণা করা হতো তাহলে আউট হওয়ার ডেলিভারিটা ফ্রি হিট পেতেন গেইল। ১৭ বলে ২১ রান করেন এই ব্যাটিং দানব। কে জানে, এই ফ্রি হিট ও আরো কয়েকটা ওভার উইকেটে থাকলে হয়তো ম্যাচটা জিতেও যেতে পারতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেটা হওয়াটা খুব অমূলকও নয়। কারণ, শেষ অবধি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে হেরেছে ক্যারিবিয়ানরা। ট্রেন্ট ব্রিজের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতে চেপে ধরেছিল ক্যারিবিয়ানরা। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৩৮ রানে চারটি উইকেট হারায়। এরপর স্টিভেন স্মিথ ও নাথান কোল্টার-নাইলের সচেতন ব্যাটিংয়ে ২৮৮ অবধি যেতে পারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এরপর ২৮৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৭৩ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিশেল স্টার্ক এবারের বিশ্বকাপে প্রথম বোলার হিসেবে পান পাঁচ উইকেট।
ম্যাচ শেষে অবশ্য জয় পরাজয় ছাপিয়ে বাজে আম্পায়ারিংটাই মুখ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কার্লোস ব্রেথওয়াইট বলেন, ‘আমাদের পায়ে প্রতিপক্ষের কেউ বলা লাগালেই আম্পায়ারের আঙুল উঠে যাচ্ছিল। তবে, আমরা আপিল করলে ওদের আঙুল নামানো থাকতো। ফলে, আমাদের রিভিউ ব্যবহার করতে হচ্ছিল। আমি জানি না, এটা বললে আমার জরিমানা হবে কি না, তবে সত্যি কথা হলো— এবারের আম্পায়ারিংটা কিছুটা হতাশাজনক ছিল। ২৮০ রানের ওপর তাড়া করতে নেমে ক্রিস গেইলকে শুরুতেই এভাবে হারানোটা মেনে নেওয়া যায় না। ও কি করতে পারে সবাই জানে, ও চাইলে ম্যাচে একাই ১৮০ করে বসতে পারে। ও চলে যাওয়ায় আমাদের ভালো সূচনার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। যা হয়েছে সেটাকে এখন আর ফেরানো যাবে না।’
যেই স্টার্ক গেইলকে আউট করেছেন তিনি নিজেও অবাক। বললেন, ‘জানি না, কীভাবে এত বড় একটা নো-বল করেও বেঁচে গেলাম। নিজেকে ভাগ্যবানই মনে হচ্ছে। আমি ড্রেসিংরুমে ফিরে ডেলিভারিটা পর্দায় দেখলাম। হাসলাম, আসলে আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। তবে, এটা প্রতিপক্ষের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’