অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি কীভাবে আরো গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমরা এখন চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। দেশের মানুষকে যতটা পারি সহায়তা করব। ন্যায়সংগত হবে না এমন কিছু তাদের ওপর চাপিয়ে দেব না।
গতকাল বুধবার (১ জুন) ভাচুর্য়াল পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি অর্থনীতি গতিশীল করার বিষয় এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাজেটে কোন বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা বিরাজমান এটা বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট হবে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশে সামাজিক নিরাপত্তায় বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে—এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের চাহিদা এবং আমাদের চাহিদা ভিন্ন। তাদের যেটা প্রয়োজন সেটা আমাদের প্রয়োজন নাও হতে পারে। কোনো দেশের সঙ্গে মিলিয়ে আমরা চাহিদা নিরূপণ করি না। আমাদের চাহিদা নিরূপণ করেই বাজেট তৈরি করা হবে। যুদ্ধ থেমে গেলে রাশিয়া বা ইউক্রেন থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, জ্বালানি, ভোজ্য তেল আনতে পারলে আমরাও লাভবান হব।
বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হবে বলে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমার সঙ্গেও তাদের আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি ভিন্ন মতামত দিতে চাই না। দেশের আর্থিক খাত নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মতামতের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে দুর্বৃত্তায়ন, এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়। আমি ওনার প্রতি আস্থা রেখে বলতে চাই। বাংলাদেশের আর্থিক খাত যেভাবে চলছে সেটা অনেক ভালো। করোনার আগেকার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনকার অর্থনীতি ভালো অছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। করোনার একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ রয়েছে অন্যদিকে সুযোগও তৈরি হয়েছে। এই সুযোগগুলো আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এর বাইরে কোনো চিন্তা করার সুযোগ নেই। দ্রব্যমূল্য বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখানে কোনো রাজনীতি নেই।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মোট ১৭টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ১১টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি, জননিরাপত্তা বিভাগের একটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একটি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি প্রস্তাবনা ছিল।