ইতালির ফুটবলাররা ক্লান্ত

দাপট দেখিয়ে গত বছরই ইউরো জিতেছিল ইতালি। লন্ডনের ওয়েম্বলিতেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জর্জিও কিয়েল্লিনির দল। এক বছরের ব্যবধানে সেই ওয়েম্বলিতে তিক্ততার মুখোমুখি হলেন আজ্জুরিরা।

বুধবার রাতে কোপা-ইউরো চ্যাম্পিয়নদের লড়াই ‘ফাইনালিসিমায়’ আর্জেন্টিনার কাছে ৩-০-তে হেরে গেছে ইতালি। আর্জেন্টাইনদের নান্দনিক ফুটবলের সামনে রীতিমতো অসহায় দেখা গেছে ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের।

অবশ্য মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের এই লড়াইয়ের আগেই হূদয় এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে আছে আজ্জুরিদের। কারণ ২০১৮ সালের পর ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইতালি। উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে পারেনি তারা।

আর্জেন্টিনার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনির কণ্ঠেও মানসিক ক্লান্িতর কথাই বেশি শোনাল। ওয়েম্বলিতে হারের পর তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দলটা খুব ক্লান্ত। আমরা অবশ্য এ ম্যাচের পরপরই নতুন করে দল সাজানোর কথা ভাবছি।’

ম্যাচের শুরুতে প্রথম গোলটি হওয়ার আগে সমান তালেই লড়েছিল দুই দল। মানচিনির মতে, নিজেদের ভুলেই পরের দুটি গোল হজম করেছে ইতালি। তিনি বলেন, ‘প্রথম গোল হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা দুই দলই সমানে-সমান ছিলাম। এরপর আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলেছে, তাতে জয়টা তাদের প্রাপ্যই। তাদের দুটি গোল হয়েছে আমাদের ভুলে। আমরা বল ধরে রাখতে পারিনি।’

ইউরো নেশন্স লিগে নামার আগে ফুটবলারদের সতেজ হওয়ার সুযোগ দিতে চান মানচিনি। একই সঙ্গে গোল-খরা কাটানোর উপায় খুঁজছেন তিনি। ইতালির কোচ বলেন, ‘এখন বেশ কয়েক জন খেলোয়াড়কে ছুটি দেব। ওরা পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাবে। ওরা ভীষণ ক্লান্ত, দুই বছর ধরে টানা খেলছে। ছুটিটা ওদের প্রাপ্য। ইউরোর পর আমরা গোল করতে পারছি না, এটা একটা বড় সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’

উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হারের আগে সাড়ে তিন বছরে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ইতালি। সেদিক থেকে ফুটবলারদের ধনবাদ জানাতে ভুললেন না মানচিনি। তবে বিশ্বকাপে উঠতে না পারার হতাশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।