মোহাম্মদ আশরাফুলের বিদায়ের পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের নেতৃত্বে এসেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের জুটি। অধিনায়ক মাশরাফির ডেপুটি হয়ে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়েছিলেন সাকিব। কিংসটাউনে প্রথম টেস্টেই ইনজুরিতে পড়ে যান মাশরাফি। ম্যাচের বাকি সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন সাকিব।
ইনজুরি নিয়ে দেশে ফেরেন মাশরাফি। গ্রেনাডায় দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের যাত্রা শুরু। ২-০ তে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার সিরিজ-সেরা হন।
নেতৃত্বের এই পথচলা দীর্ঘায়িত হয়নি সাকিবের। প্রথম দফায় ৯ টেস্টে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। জয় একটি। দলের সেরা পারফরমার হলেও ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরের পর তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয় বিসিবি। দ্বিতীয় বার সাদা পোশাকের দলটার নেতৃত্বে ফেরেন সাকিব ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় টেস্ট দলের দায়িত্ব। কিন্তু ৫ টেস্ট পরই ছিটকে পড়েন তিনি।
কারণ ২০১৯ সালে আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়েন সাকিব। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করে নিষিদ্ধ হন তিনি। এ যাত্রায় অবশ্য দুটি ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ তার নেতৃত্বে। ২০১৮ সালে দেশের মাটিতে দুই টেস্টে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। ১৪ টেস্টে তাই সাকিবের অধিনায়কত্বে ৩ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। হেরেছিল ১১ ম্যাচ। তিনটি জয়ই উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে। সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার পর তত্ক্ষণাৎ সিদ্ধান্তে মুমিনুল হককে ২০১৯ সালের অক্টোবরে টেস্ট দলের অধিনায়ক করে বিসিবি। এই বাঁহাতি ১৭ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্যাট হাতে ফর্ম হারিয়ে ফেলায় দেশকে ৩ টেস্ট জেতানো মুমিনুল নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছেন গত মঙ্গলবার।
গতকাল বোর্ড সভায় আবারও তৃতীয় দফায় সাকিবের হাতে টেস্ট দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিসিবির পরিচালকরা। কাকতালীয়ভাবে এবারও অধিনায়ক সাকিবের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ক্যারিবিয়ানে।
আবারও সাকিবকে অধিনায়ক নির্বাচন করলেও তাকে কতদিন এ দায়িত্বে রাখতে পারবেন সেটি নিয়ে সন্দিহান খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ৩৫ বছর বয়সি এ অলরাউন্ডারকে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড সভাপতি বলেছেন, ‘তবে কতদিন সাকিব অধিনায়ক থাকবে সেটা বলা মুশকিল।’
কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর রয়েছে জিম্বাবুয়ে সফর। সেখানে সাকিবকে পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত নন পাপন। তিনি বলেছেন, ‘আমি যতটুক জানতে পেরেছি, সে খেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজের পর জিম্বাবুয়ের সাথে খেলা আছে। এখন সেখানে সাকিব অনিশ্চিত।’