নিরাপত্তা হুমকি দেখিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাতের শুরু হয়। আজ শুক্রবার (৩ জুন) এই যুদ্ধ শততম দিনে প্রবেশ করলো।
যুদ্ধের দিকে দৃষ্টি ফেরালে শত শত বেসামরিক লোকের মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলোর দৃশ্যই চোখে ভাসবে।
বর্তমানে ডনবাসের শিল্প শহর সেভেরোডোনেস্ক ও লিসিচানস্ক দখলের পথে রয়েছে রুশ বাহিনী। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর দুইটিতে মস্কোর নিয়ন্ত্রণ এলাকা সম্প্রসারণে মরিয়া তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারাও।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বলেছে, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে প্রতি ছয় জনের মধ্যে একজন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ধরনের বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যা ৭৭ লাখ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ৬৮ লাখেরও বেশি মানুষ ভিনদেশে পালিয়ে গেছে।
গত ১০০ দিনের আলোচিত যত ঘটনা
২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশভাষী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রক্ষায় ও ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ এবং নাৎসিমুক্ত করতে বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের কয়েকটি শহরে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এ আক্রমণ শুরু হয়। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে থেকেই আক্রমণ প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।
এই ঘটনার পর, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করে। বিভিন্ন দেশে রুশ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাশিয়াকে বিভিন্ন খেলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও বের করে দেওয়া হয়।
২৭ ফেব্রুয়ারি রুশ পারমাণবিক শক্তিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেন পুতিন। পশ্চিমারা যেন ইউক্রেন যুদ্ধে না জড়ায়, তার সতর্কবার্তা হিসেবেই পুতিন এই ঘোষণা দেন। এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
২৮ ফেব্রুয়ারি মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শুরু হয় প্রথম শান্তি আলোচনা। এসময় ক্রিমিয়ায় তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করে রাশিয়া। সেইসঙ্গে ইউক্রেন কখনো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেবে না, এমন শর্তও দেয় মস্কো।
মার্চ ৩ ইউক্রেনের দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালিয়ে রুশ সেনারা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে এ অঞ্চলকে যুক্ত করার চেষ্টা চালায়। রুশ সেনারা এদিন খেরসন শহরটি দখল করে নেয়। এদিন থেকেই মারিউপোলে গোলা নিক্ষেপ শুরু করে তারা।
মার্চ ১৬ রুশ সেনারা মারিউপোলের একটি থিয়েটারে বোমা হামলা চালায়। সেখানে আশ্রয় নেওয়া কমপক্ষে ৩০০ ব্যক্তি নিহত হওয়ার দাবি করে কিয়েভ।
এপ্রিল ২-৩ প্রায় এক মাসের যুদ্ধের পর মস্কো উত্তর ইউক্রেন থেকে সরে এসে দক্ষিণাঞ্চল জয়ের দিকে মনোনিবেশ করার ঘোষণা দেয়। ২ ও ৩ এপ্রিল বুচা শহরে গণকবর পাওয়ার দাবি করে কিয়েভ।
এপ্রিল ৮ ক্রামাতোরস্কের একটি রেলস্টেশনে রুশ হামলায় কমপক্ষে ৫৭ জন নিহত হন।
এপ্রিল ১৪ ইউক্রেনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রুশ নৌবহরের নেতৃত্বে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রবাহী মস্কোভা রণতরিতে আঘাত হানে। এতে কৃষ্ণসাগরে রণতরিটি ডুবে যায়।
মে ১৮ সুইডেন, ফিনল্যান্ড পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানায়।
মে ২১ মারিউপোল শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে মস্কো।
মে ৩১ গুরুত্বপূর্ণ শহর সেভেরোদোনেৎস্কের কিছু এলাকা দখলে নেয় রুশ বাহিনী।
০১ জুন ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রকেট-ব্যবস্থা সরবরাহ করতে সম্মত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ রকেট-ব্যবস্থা ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে রকেট ছোড়া যাবে।
০২ জুন ইউক্রেনের মোট ভূমির ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার দখল করা এলাকার আয়তন বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের মোট ভূখণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি।