ফিরবে লালকুঠির ঐতিহ্য

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংস্কার উদ্যোগে হারানো গৌরব ফিরে পেতে যাচ্ছে পুরান ঢাকার লালকুঠি। ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্টের (ডিসিএনইউপি) অধীনে ১৮৭২ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নির্মিত কাঠামোটি সংস্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশন ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

এই কার্যক্রমের আওতায় লালকুঠির নর্থব্রুক হলে টাউন হল, এক্সিবিশন হল, ব্যাঙ্কুয়েট হল, সেমিনার হল, শো এবং ফটোশুটের স্থান থাকবে। টয়লেট, ইউটিলিটি, বর্ধিত আধা-আউটডোর স্পেস, কফি শপ ইত্যাদিসহ একটি কমিউনিটি সেন্টার থাকবে। জনসন হল অংশে একটি পাবলিক লাইব্রেরি, ডিজিটাল লাইব্রেরি/আর্কাইভ, বুক ক্যাফে, স্যুভেনির সেলস বুথ থাকবে। করিডোর অংশকে ছোট প্রদর্শনী স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। লালকুঠির বহিরাংশে নাগরিক অনুষ্ঠান, উৎসব, মেলা, বিনোদন অনুষ্ঠান, স্কুল ইভেন্ট আয়োজনের ব্যবস্হা থাকবে। বহিরাংশে থাকবে একটি টি-স্টল । 

ডিসিএনইউপি-এর প্রকল্প পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে শিগগিরই লালকুঠি ভবনটির চারপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এর সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। ভবনটিকে সম্পূর্ণ পূর্বের রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে এর আশপাশে নাগরিক ও দর্শনার্থীদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার এবং লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে।

জানা যায়, মোঘল নির্মাণশৈলী ও কৌশল অবলম্বনে ১৮৭২ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হ্যারিটেজ ভবন নর্থব্রুক হল নির্মিত হয়। যা বর্তমানে লালকুঠি হিসেবে পরিচিত। ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল টমাস জর্জ ব্যরিং নর্থব্রুক ঢাকা সফরে এলে এ সফরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই ভবনটির নাম নর্থব্র‚ক হল রাখা হয়। 

১৯২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ ভবনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা পৌরসভার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বর্তমানে ভবনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভবনটির নির্মাণশৈলী অক্ষুণ্ণ² রেখে সংস্কারের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।