ঢাকা শহরে গত ছয় মাসে ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ নারী গণপরিবহনে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৬ দশমিক ৫ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানান। গণপরিবহনের হয়রানি প্রভাব ফেলছে মানসিক স্বাস্থ্যেও। ২১ দশমিক ২ জন নারী গণপরিবহন যৌন হয়রানির কারণে পরবর্তীকালে ট্রমাটাইজড হয়েছেন। ২৯ দশমিক ৪ জনের মনে গণপরিবহন ভীতি তৈরি হয়েছে। ফলে ১৬ দশমিক ৪ জন হীনম্মন্যতায় এবং ১৩ দশমিক ৮ জন বিষণ²তায় ভুগেছেন বলে জানান। গতকাল অনলাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সমীক্ষার প্রাপ্ত ফল থেকে এ তথ্য জানায় আঁচল ফাউন্ডেশন।
জরিপের তথ্য মতে, গণপরিবহনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া। এর মধ্যে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বুলিং, ১৫ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক বৈষম্য, ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ লিঙ্গ বৈষম্য এবং ৮দশমিক ২ শতাংশ শরীর স্পর্শের মতো হয়রানির মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। যৌন হয়রানিতে এগিয়ে সাধারণ যাত্রীরা। বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন মধ্যবয়সিরা। যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের ৭৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের অন্যযাত্রীদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ২০.৪ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের হেল্পার কর্তৃক এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আপত্তিকর সংস্পশের্র শিকার হয়েছেন ১১.৯ শতাংশ। ভিড়ের মধ্যে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৩২.৮ শতাংশ।
হয়রানির শিকার ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ভয় পাওয়ার কারণে নীরব থেকেছেন এবং পরে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ গণপরিবহন এড়িয়ে চলেছেন। হয়রানিকারীর সমর্থক সংখ্যাও কম নয়, দেখা গেছে ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্য যাত্রীরা যৌন হয়রানির মতো ঘটনাকে উপেক্ষা করে গেছেন। প্রতিবাদ করে ঝামেলায় জড়াতে চান না অনেকেই। তাই যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে অহেতুক ঝামেলা মনে করে তা এড়াতে পিছিয়ে গেছেন ১৪.২ শতাংশ। এ ছাড়া কীভাবে হয়রানির শিকার ভিকটিমের পাশে দাঁড়ানো যায়, তা বুঝতে না পেরে সহযোগিতা করেননি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গণপরিবহনের হয়রানির ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে ২১ দশমিক ২ শতাংশ নারীর। পরবর্তীকালে তারা ট্রমাটাইজড হয়েছেন। এর ফলে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর কাছে গণপরিবহন এক ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ হীনম্মন্যতায় এবং ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বিষণ²তায় ভুগেছেন বলে জানান।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী মনে করেন কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা শহরের প্রতিটি সড়কে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত বাস বৃদ্ধি করা উচিত এবং ৯৪ শতাংশ মনে করেন নারীদের সংরক্ষিত সিট সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, নারী-পুরুষ সবার জন্য একটি নিরাপদ সমাজ, রাষ্ট্র এবং পরিবেশ তৈরিতে সকলের অগ্রণী ভূমিকা প্রয়োজন। উত্তরণের দিক আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটা গণপরিবহনকে সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারির আওতায় আনা, ড্রাইভার, হেলপারদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়োগ দেওয়া, যে কোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রেক্ষিতে দ্রুত বিচার করা ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহণ করলে সমস্যার মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে।