কুষ্টিয়ায় কলেজ শিক্ষক তোফাজ্জেল হোসেনের কবজি কর্তন ও হত্যা চেষ্টা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (৩ জুন) রাতে জেলার বিভিন্নস্থানে পরিচালিত অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান শনিবার সকালে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মোশারফ হোসেন মশা (২৬), নাজিম উদ্দিন (২৭), সামাদ (২৭), মুহাইমেন হোসেন (২৭), হালিম (৪০), পলাশ (২৩) ও মুকুল (৪২)। তাদের কাছ থেকে র্যাব একটি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও তিন রাউন্ড গুলি করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা শিক্ষক তোফাজ্জেলের ডান হাতের কবজি কর্তনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা আসামিদের সবাই কুমারখালীর বাসিন্দা। এর আগে শিক্ষক তোফাজ্জেলের ছেলে নাজমুস সাকিব বাদি হয়ে ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে নিজ বাড়ি শালঘর মধুয়া থেকে কুষ্টিয়া শহরে আসার সময় বংশীতলা নতুন কাছে ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ দল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক তোফাজ্জেল হোসেনের উপর অতর্কিত আক্রমণ ও হামলা চালায়। এ পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের কোপে তার ডান হাতের কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম ডিগ্রী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই শিক্ষকের একাধিক বিবাহের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র ও এলাকাবাসী জানিয়েছে।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার ক্লু বেরিয়ে আসবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানান।