১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল রাশিয়ার নাগরিক ইউরি গ্যাগারিন পৃথিবীর প্রথম কোনো মানুষ হিসেবে মহাকাশে গমন করেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৪২টি দেশের প্রায় ৬০০ নাগরিক মহাকাশে গমন করেছেন। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন তৈরির পর থেকে আজ পর্যন্ত সবসময় পৃথিবীর কোনো না কোনো মহাকাশচারী গবেষণার জন্য মহাকাশে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করেছেন।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি মহাকাশচারী মহাকাশে গমন না করলেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের লাইব্রেরিতে জায়গা করে নিয়েছে বাংলা ভাষায় লেখা বই ‘মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’। পঞ্চগড়ের তরুণ শাহ জালাল জোনাক এই বইটি লিখেছেন, যিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে রাশিয়ার বাউমান মস্কো স্টেট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে রকেট কমপ্লেক্স অ্যান্ড স্পেস সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। রাশিয়ান ফেডারেশনের শতভাগ শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন তিনি। মহাকাশচারী হয়ে ওঠার জন্য প্রস্তুত করছেন নিজেকে।
মহাকাশের বিভিন্ন মৌলিক বিষয় নিয়ে বইটি লিখেছেন শাহ জালাল জোনাক। এটি বাংলা ভাষার প্রথম বই, যা মহাকাশে বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের লাইব্রেরিতে স্থান করে নিয়েছে।
রাশিয়ান মহাকাশচারী এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের বর্তমান কমান্ডার ওলেগ আর্তেমইয়েভ গত ১৮ তারিখে কাজাখস্তানে অবস্থিত রাশিয়ার বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে মহাকাশে যাওয়ার সময় এই বইটি সঙ্গে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করছেন এবং শুক্রবার (৩ জুন) তিনি বইয়ের লেখক শাহ জালাল জোনাককে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তাঁর বইয়ের ছবি এবং একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠান। ক্লিপে দেখা যায়, জোনাকের লেখা বইটি শূন্যে ভাসছে।
ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া এক খুদে বার্তায় কমান্ডার রাশিয়ান ওলেগ আর্তেমইয়েভ বলেন, 'তোমার দেশ এবং তোমার দেশের মানুষের জানা উচিত যে তোমাদের ভাষার বই ইতোমধ্যেই মহাকাশে চলে এসেছে। পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত মহাকাশে তোমার দেশের মানুষের কোনো প্রতিনিধির (মহাকাশচারী) অংশগ্রহণ। এবং এটা তোমার হওয়া উচিত।'
‘মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ বইটি ২০২০ সালে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করা হয়। এই বইটি ছাড়াও শাহ জালাল জোনাক আরও ৬টি বই লিখেছেন।