বিশ্ব অর্থনীতি আরো দুর্বল হওয়ার আভাস বিশ্বব্যাংকের

বিশ্ব অর্থনীতি আরো দুর্বল হওয়ার পূর্বাভাস দিল বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রকাশিত জুন মাসের বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদীয়মান দেশগুলোর অর্থনীতি চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হবে। বাণিজ্যে বাধা আরোপ ছাড়াও বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কমিয়ে নতুন প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছর বিশ্বে ২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। আগামী বছর ২০২০ সালে এই হার কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারি হিসাবের চেয়ে কমিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছর ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হলেও বিশ্বব্যাংক বলছে এই প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পরের বছর প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অবশ্য এর আগে এপ্রিলে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে এবারের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।

সংস্থাটি বলছে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়া, অবকাঠামো খাতে সরকারের বড় বিনিয়োগ, সেইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে কমিয়ে পূর্বাভাস দিলেও বিশ্বব্যাংক বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় গড় ৭ শতাংশের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। বাংলাদেশে অবকাঠামো খাতে দুর্বলতাগুলো আগের চেয়ে কমেছে। চীন-মার্কিন পালটাপালটি শুল্ক আরোপের পরবর্তী সময়ে দুই দেশেই বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। বিশেষ করে, তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানি বেড়েছে।

প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস উল্লেখ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল লক্ষ করা যাচ্ছে। ঋণের মাত্রা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে দেশগুলি তাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। দেশগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়াতে এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে জরুরিভাবে কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের রপ্তানি ও বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ায় এই অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে না। সব মিলিয়ে ইউরোপের অর্থনীতিতে আগামী বছর ১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বছর আড়াই শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও পরের বছর ১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

উদীয়মান দেশগুলোতে এ বছর গড়ে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এই হার গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২০ সাল নাগাদ এই দেশগুলোতে গড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কিছু দেশে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করা হয়েছে।

দরিদ্র দেশগুলোর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়লা পাজারবাজিগ উল্লেখ করেছেন, দুর্বল দেশগুলি অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং দারিদ্র্যের কারণে সবচেয়ে সমস্যায় থাকবে। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বদারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় গড় প্রবৃদ্ধি এ বছর ৭ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ২০২০ সালে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভারতে সাড়ে ৭ শতাংশ। দেশটির অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী রাজস্ব ও আর্থিক নীতির কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। পাকিস্তানে ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।