ঈদের ছুটিতে পর্যটকে সরগরম কক্সবাজার

বৃষ্টি উপক্ষো করে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকে সরগরম হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। স্বজনদের নিয়ে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা। মেঘ-রোদের লুকোচুরি খেলায় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সাগরের নীল জলরাশির সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠছেন পর্যটকরা।

অপরদিকে, বেড়াতে আসা পর্যটকদের সেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা ছুটি থাকায় আগেই পর্যটকরা হোটেল-মোটেল বুকিং দিয়েছেন। তাই ঈদের পরদিন থেকে পর্যটক আগমন বাড়তে থাকে। কেউ কেউ ঈদের দিন রাতেই কক্সবাজার আসেন। সকাল থেকেই ভিড় জমান সমুদ্র সৈকতে। পর্যটকের উল্লাসে মুখরিত রয়েছে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলো।

পর্যটকরা সৈকতের পাশাপাশি দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানীর পাথুরে সৈকত, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রামু বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতেও ঢুঁ মারছেন। তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজারের প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে রয়েছে, যেখানে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করতে পারেন। এবারের ঈদেও পূর্বের মতো প্রায় লাখো পর্যটক ঈদের পরদিন থেকে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

কক্সবাজার বিচ ম্যানেজসেন্ট কমিটি সূত্র জানায়, সর্তক অবস্থায় দায়িত্বপালন করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। মোতায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। পর্যটন স্পটগুলোকে সিসিটিভি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিত্সা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সমুদ্র সৈকতে। গোসল করাকালীন বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষার্থে সর্তক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।

গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক রাসেল মিয়া জানান, পরিবারসহ খুবই মজা করছি। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, অনেকে ভয় দিয়ে ছিলেন সৈকত ও হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় ঠকবাজরা ফণা তুলে আছে। কিন্তু প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে কলেজ বন্ধুরা পরিচ্ছন্ন ভাবে বেড়িয়ে রাতে (শুক্রবার) ফিরছি। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোঁরায় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা আগেই দেয়া ছিল। ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র (ইনবক্স)। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে একটি হটলাইন নম্বর (০১৭৩৩৩৭৩১২৭)। যে কোনো অভিযোগ এখানে করতে পারবে পর্যটকরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রয়েছে তিনটি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে মাঠে রয়েছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত।