সবার হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক, কেউবা ধরে আছেন ঝুড়ি। ঝাড়ু হাতে অনেকে পরিষ্কার করছেন নিজ শ্রেণিকক্ষ, করিডোর কিংবা ভবনের চারপাশ। শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী কর্মকর্তা থেকে কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই অংশ নিয়েছেন এমনই এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিচ্ছন্নতা অভিযানে।
রবিবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সাথে সঙ্গতি রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজন করে ক্লিন ক্যাম্পাস নামে এক অভিনব কর্মসূচি। পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, আমাদের সৌন্দর্য্য মূলমন্ত্রকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয় এই কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভাইস-চ্যান্সেলর তার নিজের অফিস এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবন পরিষ্কারের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, হল, ঈদগাহ, গবেষণা মাঠ, আবাসিক এলাকা পরিষ্কারে নামেন সবাই। আগে থেকে প্রায় ১৫ টি জোনে ভাগ করা অঞ্চলে শিক্ষকদের সহযোগিতায় স্ব স্ব অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুষদ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করেন। হল সুপারদের নেতৃত্বে হলগুলোতে চলে পরিষ্কার কার্যক্রম।
আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা চলা এ অভিযান ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের নির্ধারিত অঞ্চলের প্রতিটি ময়লা পরিষ্কার করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের লেকের মতো যায়গাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের দোকানীরা ময়লা ফেলে যায়গাটি প্রায় ভরাট করে ফেলেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতায় সেই যায়গাটিও সুন্দরভাবে পরিষ্কার করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ময়লা পরিষ্কার করছে, আগাছা উপরে ফেলছে, ঝাড়ু দিচ্ছে এটি আমাদের কল্পনাতেও আসেনা। এমন দৃশ্য শুধু স্কুল-কলেজে দেখতাম। আজকের এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান সত্যিকার অর্থে একটি সফল কার্যক্রম। অনেক সময় দেখা যায় শুধু বড় কর্তারা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে দিয়ে চলে যান। বাঁকি কাজ আমাদের করতে হয়। কিন্তু এখানে তা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজেরা আজ সব পরিষ্কার করেছে। আমরা অনেক খুশি হয়েছি সংকোচ না করে তাদের নিজেদের ময়লা উঠানো দেখে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আরফিন জাহান স্বর্ণা জানান, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আমাদের ক্লাসরুম, ফ্লোরগুলো পরিষ্কার করেন। আজ আমরা নিজেরা তা পরিষ্কার করলাম। সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ধন্যবাদ কাজটি করার সুযোগ করে দেবার জন্য। এই মহতি উদ্যোগের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এই উদ্যোগ যাতে চলমান থাকে এটাই প্রত্যাশা।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান বলেন, 'পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, আবাস কার না ভালো লাগে? আজ আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিষ্কার করলাম। এটি শুধু আজকের জন্য নয়, এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এটি সারা দেশের সব ক্যাম্পাসের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। মাঝেমধ্যে এমন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করবো আমরা। শিক্ষার্থীসহ সবার প্রতি আমার আহবান, বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের। এটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমাদের।'
প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আজকের এই কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ সকল অনুষদের শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পরার মতো। শিক্ষার্থীদের কাজে সহযোগিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের প্রেমে পরেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। শুধু শিক্ষার্থীরা নন, প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ভর্তিচ্ছু এবং অভিভাবকদের মুখেও শোনা যায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের বর্ণনা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ বিশ্ববিদ্যালয়টি আমরা নিজেরা পরিষ্কার করেছি। এটি যাতে আর ময়লা না হয় এমনটাই প্রত্যাশা থাকবে সকলের কাছে।