স্লুইচগেট বন্ধ, বিপাকে শত শত মৎস্য চাষি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শালিখা স্লুইচগেট বন্ধ থাকায় খেশরা, জালালপুর, মাগুরা ও খলিশখালী ইউনিয়নের কয়েকশ মৎস্য চাষি বিপাকে পড়েছেন। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের প্রধান আয়ের উৎস্য সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষ। এতে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

হরিহরনগর গ্রামের হাফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার, শাহাপুর গ্রামের আমিনুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক সরদারসহ কয়েকজন বলেন, ‘১৫ দিন শালিখা স্লুইচগেট বন্ধ থাকায় আমরা দারুণ বিপাকে পড়েছি। পানির অভাবে বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ ইতোমধ্যে ঘেরেই মারা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।’ 

তবে সাতক্ষীরা-২ এর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, কপোতাক্ষ খননকাজ চলমান থাকায় স্লুইচগেট বন্ধ রাখা হয়েছে। খনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত গেট ছাড়া যাবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমি সম্প্রতি খননকাজ পরিদর্শন করেছি। দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।’

খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, ‘এবিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। খননকৃত খালের মুখে ক্রসবাঁধ দিয়ে খনন কাজ চালানোর অনুরোধ করেছি। এতে শালিখা গেট দিয়ে পানি তুললেও খনন কাজের কোনো অসুবিধা হবে না, মৎস্য চাষিরাও বাঁচবে।’

তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান বলেন, ‘খাল বা নদী খননের উপযুক্ত মৌসুম হলো শুষ্ক মৌসুম। এখন বর্ষা মৌসুম আগত। এ সময় কোনো খনন কাজ পূর্ণাঙ্গরূপে শেষ করার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা থেকে যায়। সে ক্ষেত্রে প্রকল্পের বরাদ্দ তছরুপ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।’ তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্রকল্প যাতে সুচারুরূপে সম্পাদন হয়, সেজন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।