ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে জাবি শিক্ষার্থীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ জুন) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই দণ্ড দিয়েছেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম।

দণ্ড পাওয়া শিক্ষার্থী শামসুল আলম বাবু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্র। ২০১৫ সালে ওই ঘটনার পর তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার বিচারে সোমবার রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম জানান, একটি ফেসবুক আইডিতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী নিয়ে লেখা একটি পোস্টে শামসুল আলম আপত্তিজনক কমেন্ট করেছিলেন। সেটা ভাইরাল হওয়ার পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে ছাত্র-ছাত্রীরা আটকে রেখেছিল। পরে ভিসির অনুরোধে মামলা করে এক শিক্ষার্থী। সেই মামলায় আজ তার সাজা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা শামসুল আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ড ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামির বয়স ২৩ বছর। তার স্বল্প বয়স বিবেচনায় তাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত/২০১৩) এর ৫৭ ধারায় ন্যূনতম সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৪ অগাস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে শিক্ষার্থী আল আমিন সেতুর লেখা একটি কলামের অংশ ফেসবুকে শেয়ার করেন মোরশেদুর আকন্দ নামের আরেকজন শিক্ষার্থী। সেই পোস্টে ‘কবির মামু’ নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করেন শামসুল আলম বাবু।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ২০১৫ সালের ৫ অগাস্ট তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়। ২০১৬ সালের ২১ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। বিবিসি