সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে ছয় বছর। এ নিয়ে হাইকোর্ট উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, একটি গোষ্ঠী এই হত্যা মামলার বিচারকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু নিহত মিতুর পরিবারের সদস্যদের তো বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেটা তো অস্বীকার করার কোন সুযোগ নাই। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নুরউদ্দিনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (৭ জুন) এই মন্তব্য করেন।
মিতু ও বাবুলের দুই সন্তান রয়েছেন দাদা ও চাচার কাছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিম্ন আদালতের অনুমতি পেয়েছেন। ওই দুই শিশুকে যেন শিশু আইনের বিধান মেনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সেই বিষয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বাবুল আক্তারের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ ও ভাই হাবিবুর রহমান লাবু।
ওই আবেদনের শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষের কৌসুলি শিশির মনিরের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেন, আপনারা কি এই মামলার বিচারকে বিলম্বিত করতে চাচ্ছেন? আইনজীবী বলেন, কখনই না। আমরা চাই দুই শিশুকে যেন শিশু আইনের ৪৭ ধারার বিধান অনুসরণ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদি ওই আইনানুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাহলে কালই আমরা শিশুদের হাজির করব।
আদালত বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে চট্টগ্রামে। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মাগুরায় গিয়ে শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে এটা আইনের কোথায় রয়েছে? তদন্তকারী কর্মকর্তা শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে এটাই স্বাভাবিক।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, দুই সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বাবুল আক্তার মাগুরা আদালতে মামলা করেছেন। সেই মামলায় কোন ধরনের আদেশ না হলেও মিতুর দুই সন্তানকে দাদা, চাচা ও সৎ মা জিম্মি করে রেখেছেন। কিন্তু ওই অভিভাবকত্বের মামলার কোন তথ্য এই আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি বলেন, শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদেশ দিয়েছেন। সেই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে শিশু আদালতে গেছেন উনারা। কিন্তু শিশু আদালত যে আদেশ দিয়েছে সেটা তো উনাদের পক্ষেই গিয়েছে। কিন্তু এর পরেও তারা কেন আবার হাইকোর্টে এসেছেন শিশু আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে? এ থেকে একটাই প্রমাণ হয় যে মিতু হত্যা মামলার বিচারকে নস্যাৎ করতেই একের পর এক আবেদন বিভিন্ন আদালতে করা হচ্ছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে গুলি ও কপিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে।