বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত গণতন্ত্র ও বাংলাদেশ

কোভিড-১৯-এর পরে যে গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চরিত্র বদলে যাবে তা অনেক আগেই বোঝা গিয়েছিল। কারণ, পৃথিবী জুড়ে এত বড় মাপের কোনো বিপর্যয় যখন আসে সে সময়ে সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসে। পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সে তথ্যই সামনে আসে।

যেমন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত উপমহাদেশ দখলের ভেতর দিয়ে ভারতবর্ষ সম্পূর্ণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে যাওয়ার পরেই ইউরোপ ও এশিয়ার রাজনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর অনেক কিছু বদলে যেতে শুরু করে। এরও আগে দেখা যায়, কুবলাই খান চীন সাম্রাজ্য দখলের পরে পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক চরিত্র বদলে যেতে থাকে। যার ঢেউ সে সময়ে মধ্যপ্রাচ্যেও পড়ে। আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পরিবর্তন সবার জানা। এই দুই মহাযুদ্ধের প্রভাবের ফলে যেমন সমাজতান্ত্রিক দুনিয়া বা কমিউনিস্ট দুনিয়া শক্তিশালী হয়, তার পরও দেশে দেশে সামরিক শাসকও আসে। গণতান্ত্রিক বিশ্ব ও কমিউনিস্ট বিশ্ব উভয়েই সে সময়ে সমাজতন্ত্রের নামে ও গণতন্ত্রের নামে সামরিক অটোক্রেসিকে সমর্থন করে গেছে। অর্থনীতিরও চরিত্র নানান রকম হতে থাকে। বিশ্বের মোট চাহিদার চিনির বড় অংশের জোগানদাতা কিউবাকেও রুটির অভাবে লাইন দিতে হয়েছে। এবং কিউবার জন্য গণতান্ত্রিক বিশ্বের এক নীতি ছিল আবার সামরিক আইয়ুব খানের পাকিস্তানের জন্য আরেক নীতি ছিল। এর পরে এলো মিডল ইস্টের তেলের রাজনীতি। মিডল ইস্টের এই তেলের রাজনীতিও সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অনেক পরিবর্তন আনে।

এসব মিলে পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা, অতীত অভিজ্ঞতা ও চলমান বাস্তবতাই স্থির করে দিয়েছিল কোভিড-১৯-এর পরে পৃথিবীর অর্থনীতি ও রাজনীতি বদলে যাবে। এবং পৃথিবীতে যখন কোনো আঘাতের ভেতর দিয়ে কোনো পরিবর্তন আসে, অর্থাৎ যুদ্ধ বা মহামারি সে সময়ে দেখা যায়, সব থেকে বেশি আঘাতটা গিয়ে পড়ে গণতন্ত্র বা মানসিকতার স্বাধীনতা ও সমাজের স্বাধীনতার ওপর। বাস্তবে গণতন্ত্র বা চিন্তা ও সমাজের স্বাধীনতা মূলত সভ্যতার ও সংস্কৃতির ধীরস্থির চিন্তার একটি অগ্রগতির ধারা, যার শেকড় সমাজের অনেক অতীতে। আফ্রিকার ইউরোবা কালচার, প্রাচীন ভারতে সব মানুষের মিলনের ধারা ও গ্রিসের নগররাষ্ট্র সবখানেই দেখা যায়—চিন্তার স্বাধীনতার, মানুষের স্বাধীনতার একটা ধারা আছে। আর সেই ধারার আধুনিক রূপই আজকের গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা ও সেই ধারণায় রাষ্ট্র ও সমাজ চালিত হওয়া। তাই কোনোভাবেই যখন রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের ওপর বড় ধরনের আঘাত আসে সে সময়ে কোনো-না-কোনো পক্ষ থেকে মানুষ ও তার চিন্তার স্বাধীনতার ওপর একটা আঘাত আসার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

যেমন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অনেক বেশি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সৃষ্টি হলে, সে রাষ্ট্রগুলো চার্চিলের ভাষায় ‘লোহার পর্দা’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়। তাই সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অন্যান্য লোহার পর্দার দেশগুলোর অবসান ঘটলে, ১৯৯২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা তার ‘দি এন্ড অব হিস্টোরি অ্যান্ড দ্য লাস্ট ম্যান’-এ আশা করেন পৃথিবীতে লিবারালইজম বা উদার গণতান্ত্রিক ধারার এবার এক ধরনের নির্বিঘ্ন যাত্রা শুরু হবে। কিন্তু ২০১১ সালে এসে তার ‘অরিজিন অব পলিটিক্যাল অর্ডারে’ দেখা যাচ্ছে তিনি গণতন্ত্রের নির্বিঘ্ন যাত্রা দেখতে পাচ্ছেন না। দেখতে পাওয়ারও কোনো উপায় ছিল না। কারণ, সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতনের পরে, টেরোরিজম, মিডিলইস্টে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, আফগানিস্তানে হস্তক্ষেপ, অন্য দিকে ইউরোপসহ নানান দেশে অটোক্র্যাটদের গণতন্ত্রের নামে বা অন্য কোনো নামে উত্থান বলে দিতে থাকে, সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতনের ভেতর দিয়ে গণতন্ত্রের কোনো শুভযাত্রা হয়নি। এখন এই কোভিড-১৯-উত্তর ও ইউক্রেনে সোভিয়েত আগ্রাসনের এই মুহূর্তে বসে গত সপ্তাহে ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা লিখেছেন, উদারনৈতিকতা বিপদে। উদার সমাজের মৌলিক অধিকার, ভিন্নতার প্রতি সহনশীলতা, ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি সম্মানবোধ এবং আইনের শাসন এখন হুমকির মুখে। যার থেকে স্পষ্ট করে বলা যায়, গোটা পৃথিবীতে এখন গণতন্ত্র দুঃখজনকভাবে তার উদার চরিত্র হারাচ্ছে।

গণতন্ত্র যে দুঃখজনকভাবে তার উদার চরিত্র হারাচ্ছে তার অনেক বড় উদাহরণ দেখা গেছে আমেরিকাতে ট্রাম্পের পরাজয়ের পরে পরাজিতদের সশস্ত্র হামলার ভেতর দিয়ে। এর পরে বাইডেনের আমেরিকা সেখান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু তা প্রতি ক্ষেত্রে বাধা পাচ্ছে দেশের ভেতর আবার দেশের বাইরেও। অন্যদিকে পৃথিবীর দেশে দেশে এখন গণতন্ত্রের অন্য এক ধরনের মৃত্যু দেখা যাচ্ছে। সেটা আফ্রিকার দেশে দেশে, রাশিয়ায়, ইউরোপের ও এশিয়ার অনেক দেশে। এই দেশগুলোতে নির্বাচিত নেতারা বিচার বিভাগকে তাদের বন্দুকের মুখে রেখেছেন। নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। মিডিয়াকে দেশি বা কোনো অটোক্র্যাট দেশের অর্থ দিয়ে কিনে নিয়েছেন। প্রাইভেট সেক্টর নানানভাবে দেশীয় অটোক্রেটিক চিন্তা ও অর্থ প্রদানকারী অটোক্রেটিক দেশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এমনকি অটোক্রেটিক বিত্তশালী দেশ গণতান্ত্রিক দেশকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করার নামে সেখানে ঢুকে তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি সবই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আবার ভারতের মতো বহুত্ববাদী দেশে দেখা যাচ্ছে ধর্মের নামে, আঞ্চলিকতার নামে গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রিত করছে।

এভাবে যখন প্রতিষ্ঠানসহ মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, সে সময়ে সোশ্যাল ফোরাম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যাকে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া বলেন, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভয়ংকর রূপ পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা যাচ্ছে। এমনকি যেসব দেশে প্রতিষ্ঠান খুব বেশি ধ্বংস হয়নি, মিডিয়াও যথেষ্ট ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারে, সেসব দেশেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই ভয়ংকর রূপের উত্থান ঘটছে, রাজনীতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে। তারা মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের মত ও তথ্য প্রকাশ না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশ করছেন। এভাবে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ মিডিয়া নামক প্রতিষ্ঠানটিকে তারা মূল্যহীন করছেন। আজ ইন্টারনেটের কারণে অনেক দেশে যে যথেচ্ছ মিডিয়ার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে, এটা অবশ্য সুস্থতা নয়। কারণ, মিডিয়ার সঙ্গে পার্লামেন্ট বা সিনেটের মতো দায়বোধ জড়িত থাকে। এই দায়বোধটা সব সময়ই নির্ভর করে একটি ট্র্যাডিশনের ভেতর দিয়ে মিডিয়া বের হয়ে আসা ও চলা—যেমনটি ট্র্যাডিশন থাকে গণতান্ত্রিক পার্লামেন্টে। অন্য দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো দায়বোধও নেই। তাছাড়া একটি সুস্থ মত গড়ে ওঠার পথও এই মাধ্যম নষ্ট করে দিচ্ছে। মিডিয়া যেমন পার্লামেন্টের মতো নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করার ভেতর দিয়ে একটা সুস্থ মত সমাজে গড়ে তোলে—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঠিক তার উলটো। এখানে দায়িত্বহীন এবং অসত্য নানান মত আসার কারণে মানুষের সুস্থ মত গড়ে ওঠার পথ নষ্ট করে দেয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটছে ভয়াবহ অপপ্রচার। যার প্রমাণ দেখা গেছে সাম্প্রতিক ফিলিপাইনের নির্বাচনে। সেখানে শুধু মার্কোসের ছেলে জেতেননি। সামরিক স্বৈরাচারী মার্কোসকেও নতুন প্রজম্ম সে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তির পিতা হিসেবে জেনেছে।

গণতান্ত্রিক বিশ্ব যখন বাস্তবে এমন একটি সময়ে, এ সময়ে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক দেশকে তার নিজ নিজ দেশের গণতন্ত্রকে এই নিম্নগামিতা থেকে ঠেকাতে হবে। এবং ঠেকাতে হবে, দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে, গণতান্ত্রিক দলগুলোর নিজস্ব অস্তিত্বের স্বার্থে—সর্বোপরি সভ্যতার স্বার্থে। বাংলাদেশে এ মুহূর্তে দেশের সব থেকে ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক দলটি ক্ষমতায়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষমতাসীন দলটির রাজনীতি অনেক বেশি মনোযোগী। অন্য দিকে ঐ অর্থে এ মুহূর্তে দেশে কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দল নেই। অর্থাৎ দেশে কোনো প্রয়োজনীয় ভিন্নমত নেই। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল আছে। তাদের সমর্থকও আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাদের কোনো রাজনীতি নেই। সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে তারা কোনো রাজনীতি শুধু যে উপস্থিত করতে পারেনি তা নয়, তাদের বিশ্বাসেও আনতে পারেনি। অন্য দিকে কখনো কখনো কোনো কোনো দেশে দেখা যায়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে থেকে সময়োপযোগী রাজনীতি নিয়ে কোনো দল বা গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে সেটা হয়নি। তাই এখন বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র রক্ষার দায় ঐতিহ্যবাহী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওপর। কিন্তু তারা যদি মনে করে, আমরা ক্ষমতায় আছি—এটাই তো গণতন্ত্র ও রাজনীতি রক্ষা এবং আবার ক্ষমতায় যাব—সে পথে এগোনোই রাজনীতিকে ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়া—তাহলে সেটা তাদের ভুল হবে। বরং এই দলটি অতীতে যে কাজ করেছে, ভবিষ্যতে এ দেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতি রক্ষা করতে হলে তাদের সেই পথে হাঁটতে হবে। অর্থাৎ অতীতে তারা বারবার যেমন নিজেদের পরিবর্তন করেছে, এখনো ঠিক তেমনই সময় এসেছে।

এক দিকে কোভিড-১৯-উত্তর এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে পৃথিবীতে স্বৈরতন্ত্র ও গণতন্ত্র মুখোমুখি। এমন সময়ে গণতান্ত্রিক দলগুলোর নিজ দেশে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন, দলগুলোর কাঠামো সংস্কার এবং রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটা নতুন রাজনীতি। সেই নতুন রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হতে হবে সমাজের আরো বেশি গণতন্ত্রায়ণ করা। কারণ, সমাজ ও রাষ্ট্রকে যত বেশি গণতান্ত্রিক করা যাবে ততই কিন্তু রাজনীতি ও সরকার শক্তিশালী হবে।

দল ও সমাজের সব শক্তিকে বাদ দিয়ে যখনই দেখা যায় রাষ্ট্রে প্রশাসন ওপরে উঠে গেছে, তখন সেটাকে অশনিসংকেত ধরতে হয়। আজ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির দুর্বলতার বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে—সেখানে প্রশাসন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার ওপরে উঠে গিয়েছিল। বাংলাদেশেও এখন দেখা যাচ্ছে, রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী পালনের মতো অনুষ্ঠানেও জেলা পর্যায়ে ডিসি প্রধান অতিথি, এসপি বিশেষ অতিথি। তাদের নিচে রাজনৈতিক নেতারা। আর বুদ্ধিজীবীরা তো অনেকখানি বিতাড়িত।

তাই এ মুহূর্তের এই বিশ্ব জুড়ে যখন গণতন্ত্র বিপদে, সে সময়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নতুন একটা বাঁক নিতে হবে। আর এ বাঁকে তার রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি সামাজিক শক্তির স্বাধীনতা ও সংযোগের বিষয়টি মাথায় নিতে হবে। তাদের অতীতের দিকে তাকিয়ে দেখতে হবে, শুধু সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির ওপর ভর করে শেখ হাসিনা যে ১৪০০ সাল পালন করেছিলেন তার ইমপ্যাক্ট সমাজে কী বিশাল হয়েছিল। গণতন্ত্র ও সংস্কৃতি রক্ষার এক প্রতীক হিসেবে পহেলা বৈশাখ কোথায় চলে গিয়েছিল। দেশের সব থেকে বড় সাংস্কৃতিক উত্সবে পরিণত হয়েছিল। এমনি সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে আওয়ামী লীগকে পরিবর্তিত হতে হবে। পাশাপাশি গণতন্ত্রের ও গণতান্ত্রিক দেশের স্বার্থে সরকারের বাইরের দলগুলোকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করতেই হবে। যেমন : আমেরিকার যারা উদার গণতান্ত্রিক তারা মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি নিজেদের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো পরিবর্তন ও আরো বেশি উদার শক্তির সঙ্গে সংযোগ না ঘটান, তাহলে আমেরিকার গণতন্ত্রও আবার হুমকির মুখে পড়বে। সব দেশের গণতন্ত্রের জন্য এটাই বাস্তবতা।

হ লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক। সাংবাদিকতায়

বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত