দেশীয় ব্যবসায়ীদের চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্যবসায়ীদের আরও নিবিড় ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনশি। বুধবার (৮ জুন) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) আয়োজিত "চীনের বাজারে প্রবেশে করনীয় কি?" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)  এর চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় তিনি চীনে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি ও চীনা বিনিয়োগের বর্তমান চিত্র, সংকট, সম্ভাবনা ও করনীয় তুলে ধরেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে রপ্তানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। চীন পণ্যের একটি বিশাল বাজার। চীনের বাজারে বাংলাদেশের অনেক পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ যেসব দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে, চীন তার চেয়েও কয়েক গুণ বড় বাজার। শিল্পের যন্ত্রপাতি, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য চীন থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু সে তুলনায় পণ্য চীনে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। সে কারণেই চীনের সঙ্গে দেশের বাণিজ্য ব্যবধান অনেক বেশি। শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। অন্যান্য রপ্তানি পণ্য উৎপাদন করে চীনে তা রপ্তানি করেই বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে হবে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে চীনে রপ্তানি করা হয়েছে ৬৮০ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। একই সময়ে চীন থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। 

এ সময় বাংলাদেশ নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক  বন্ধুত্বের এবং পারস্পরিক সহযোগিতার। এখন সব চেয়ে বড় আলোচনার বিষয় কীভাবে চীনে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো যায়। ৯৮ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা নিতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো পরামর্শ দেন চীনা রাষ্ট্রদূত। বলেন, চীনের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। এসময় রাষ্ট্রদূত জানান, কর্ণফুলি টানেলের উদ্বোধন নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা নেই। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এসময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে লি জিমিং জানান, বাংলাদেশ হয়ত শিগগিরই RCEP বা রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপের সদস্য পদ পাবে। আর তা হলে বাংলাদেশের জন্য অবাধ বাণিজ্য সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি। 

স্বাগত বক্তব্যে BCCCI-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জনাব আল মামুন মৃধা বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে একটি সুশ্রেণীবদ্ধ আট-দফা সুপারিশ প্যাকেজ পেশ করেন যা বাংলাদেশ থেকে চীনে দ্রুত রপ্তানি বাড়ানোর উপর জোর দেয় এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, অন্য দেশগুলোর তুলনায় চলতি মাসে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কম। আর এজন্য দেশটিতে যাতায়াত ও ভিসা জটিলতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশি উদ্যোক্তাদের চীনের বাজারে বিক্রি যোগ্য পণ্য তৈরি ও রপ্তানির তাগিদ দেন ইপিবি'র ভিসি। এসময় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ব্যবসায়ীদের আন্তরিক ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি। 

এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গোলাম মর্তুজা ও মুখপাত্র আল মামুন মৃধা।