সাত দিনের বেশি সময়ের জন্য কোনো যানবাহন রিকুইজিশন করা যাবে না মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, ডিএমপি অধ্যাদেশ অনুযায়ী রিকুইজিশন করা গাড়ি শুধু জনস্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। কোনোভাবেই ব্যক্তিস্বার্থে এ ধরনের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ নাই। ‘এইচআরপিবি বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় এমন নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চের তিন বছর আগে দেওয়া এই রায়ের পূণার্ঙ্গ অনুলিপি গতকাল বুধবার (৮ জুন) প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, ডিএমপি অধ্যাদেশে গাড়ি রিকুইজিশন করার ক্ষমতা ডিএমপি কমিশনারের। ব্যক্তিগত, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি রিকুইজিশন করার ক্ষেত্রে মালিককে কারণ উল্লেখ করে আগে নোটিশ দিতে হবে। রিকুইজিশন করা গাড়ি যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তার বাইরে কোনো পুলিশ অফিসার বা তাদের পরিবার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এটা ব্যবহার করতে পারবেন না। রিকুইজিশনে থাকার সময় গাড়ির তেল ও আনুষঙ্গিক খরচ কতৃর্পক্ষকে বহন করতে হবে। ডিএমপির মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে রিকুইজিশনকৃত গাড়ির ক্ষতিপূরণ এবং দৈনন্দিন ভাতা নির্ধারণ করতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনো গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ ডিএমপিকে তহবিল দেবে।
রায়ে আরো বলা হয়েছে, গাড়ি রিকুইজিশনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগী বহনকারী, পঙ্গু বা বিদেশগামী যাত্রী বহনকারী গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না। রিকুইজিশনকৃত গাড়ির রেজিস্ট্রার মেইনটেইন করতে হবে। সেখানে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। রায় প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে এই নির্দেশনা সাকুর্লার আকারে জারি করে সংশ্লিষ্ট সব স্থানে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
২০১০ সালে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনী কর্তৃক ৩০০ গাড়ি রিকুইজিশন সংক্রান্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। ঐ রিটের ওপর জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে ২০১৯ সালে এই রায় দেওয়া হয়। ঐ রায়ের লিখিত পূণার্ঙ্গ রায় গতকাল প্রকাশ পেয়েছে বলে জানান রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি মনজিল মোরসেদ।