মধুমাসে পাকা জামের রসে রঙিন হয়ে উঠেছে উপজেলার মুলাডুলি জামের পাইকারি হাট। দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে আগত শত শত ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত এ হাট। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা জাম কিনতে আসেন মুলাডুলির আড়তে।
ঈশ্বরদীর মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, ফরিদপুর, গোয়ালবাথান, চাঁদপুর, বাঘহাছলা এবং পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়ার পারখিদিরপুর, মাজপাড়া, খিদিরপুর, লালপুরের পালিদেহা লালপুরের পুরাতন ঈশ্বরদী, কচুয়া, রাকসা, দুয়ারিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের বাড়ির আঙিনা ও সড়কের পাশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ জাম গাছ। জাম পাকার পর গাছের মালিকরা বাজারে নিয়ে আসেন। স্বল্পকালীন ফল হওয়ায় জামের বাজার সর্বোচ্চ এক মাসস্থায়ী হয়।
স্থানীয়ভাবে হাঁড়ি জাম, ঠাকি জাম ও ক্ষুদে জাম এখানে পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে আকারভেদে ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে জাম বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার ট্রাক জাম প্রতিদিন চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। জাম বিক্রি করে এলাকার কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সকালে মূলাডুলিতে সরেজমিনে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ক্যারেটে জাম সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে অটোবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেলে করে গাছ মালিক ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা জাম নিয়ে আসছেন। দরদাম করে পাইকাররা এসব জাম কিনে নিচ্ছেন।
জাম বিক্রি করতে আসা মুলাডুলির আনোয়ার হোসেন জানান, মানুষ একসময়ে ভালো কাঠের জন্য বাড়ির আশপাশে জাম গাছ লাগাতো। এখন শুধু কাঠের জন্যই নয়, জাম বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছি। এখন এলাকায় জামের গাছ বেড়েছে। বাড়ির চারটি গাছের জাম এপর্যন্ত ২০ হাজার টাকা জাম বিক্রি করেছেন। গত সপ্তাহের শুরুতে জাম বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা কেজি, এখন বাজার ৬০ টাকা। তবে আগের তুলনায় এবার জামের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
মুলাডুলির পাইকারি হাটের ব্যবসায়ী হাসান ফকির বলেন, এখানকার জাম অত্যন্ত সুস্বাদু ও আকারেও বড়। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে এ জামের চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন ফলের দোকানে জাম পাঠাচ্ছি। কৃষকরাও ভালো দাম পাচ্ছেন, আমরাও লাভবান হচ্ছি।
জামের আড়তদার আমিনুর রহমান বাবু জানান, ঈশ্বরদীসহ প্রায় ৭-৮টি উপজেলার মানুষ মুলাডুলি আড়তে জাম বিক্রি করতে আসেন। এখানে জামের চাষ বাণিজ্যিকভাবে না হলেও বাড়ির আঙিনায় লাগানো গাছ থেকে এসব জাম তারা সংগ্রহ করেন। ফড়িয়ারা জাম কিনে এখানে বাজারজাত করে থাকেন। প্রতি বছর প্রায় ২-৩ কোটি টাকার জাম এখানে বেচাকেনা হয়। জামের আড়তে প্রতিবছরই আমদানি বাড়ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ঈশ্বরদীতে জাম চাষ এখনো শুরু হয়নি। মুলাডুলি আড়তে যে পরিমাণ জাম বেচাকেনা হয়, তাতে কৃষকরা একসময় বাণিজ্যিকভাবে জাম বাগান করতে উৎসাহিত হবেন। জাম ঈশ্বরদীর একটি সম্ভাবনাময় ফল হয়ে উঠবে। জামের বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো।