‘শিক্ষাখাতে বাজেট মোটেও পর্যাপ্ত নয়’

২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি অর্থ বছরের তুলনায় শিক্ষাখাতে ৯ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়। যা চলতি বছরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৭১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। তবে শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ালেও মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাখাতে এবারের বাজেট মোটেও পর্যাপ্ত নয়, তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের বাজেটও তো সীমিত। আমরা ধরে নিয়েছি যে-শিক্ষাখাতে একটা বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। শিক্ষা নিয়ে ওই ধরনের কোন ভিশন আমাদের নেই। এই মুহূর্তে শিক্ষা নিয়ে ভিশনটা আস্তে আস্তে শুরু হচ্ছে। এবার নতুন একটা পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। যেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু পরিবর্তন যেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো এখন করা হচ্ছে। এটি করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত সক্ষম করে তুলতে হবে।’ 

শিক্ষাখাতে কেন বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন বিষয়টি উল্লেখ এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়িয়ে সত্যিকার অর্থে মেধাবী যারা, তাদের শিক্ষকতায় আগ্রহী করার জন্য যে পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ প্রয়োজন এখনো পর্যন্ত সেটি করা হয়নি। আগামীতেও খুব দ্রুত হবে বলে আমার মনে হয় না।’

প্রস্তাবিত বাজেট পর্যাপ্ত না হলেও শিক্ষাখাতে গতবছরের চেয়ে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, এটা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হচ্ছে। তার কারণ অনেক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এছাড়া অতিমারির সময় যে সমস্ত স্কুল-কলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো, সেগুলির ক্ষতিপূরণ করা চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘বাজেটের সমস্যা হলো যত বরাদ্দ থাকে, তার কিছুটা চলে যায় নানান স্বার্থন্বেষী মহলের পকেটে। তারপরও আমি মনে করি এটি ইতিবাচক। প্রথমত, এটির বাস্তবায়ন হতে হবে। বাড়ানোর জন্যে একটা ভিশন দরকার। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাটা আলাদা করে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রচুর বেতন সুবিধা বাড়াতে হবে। বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি এই রকম করা যায়-প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতায় সবচেয়ে ভালো ছেলে-মেয়েরা আসবে। বিশেষ করে মেয়েরা। তাহলে আমাদের পরিবর্তন ওখান থেকেই শুরু হবে।’

গবেষণাগার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাজেট নিয়ে আমি খুব খুশি হলাম যে-শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৬ শতাংশ করতে হবে। বর্তমানে ২ শতাংশ রয়েছে। আস্তে আস্তে ৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। আমাদের গণিতে বিনিয়োগ লাগবে, বিজ্ঞানে বিনিয়োগ লাগবে। গবেষণাগার বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপাতত এটা নিয়ে আমাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। অন্তত যে বাজেট আগের মতো রাখেননি। এবার শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়িয়েছেন। সবমিলিয়ে আমি মনে করি-আমরা যেহেতু খুব বিপন্ন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এজন্য ব্যয় সংকোচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে যে বাজেট বাড়ানো হয়েছে, সেটিকে আমি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৯ জুন) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাখাতে টাকার অংকে মোট বরাদ্দ বাড়ছে। চলতি অর্থ বছরের তুলনায় আসন্ন অর্থ বছরে মোট ৯ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য আসন্ন অর্থ বছরে মোট ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি বছরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৭১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।