জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উত্থাপন করেছেন, তার ওপর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিম্নলিখিত বিবৃতি প্রদান করেছেন।
‘কোভিড মহামারির আগ্রাসন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। এই বাজেট বাংলাদেশের সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই বৃহৎ বাজেট পেশ করার মধ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী যে সাহস দেখিয়েছেন, তার জন্য তিনি ধন্যবাদ পেতে পারেন। যদিও এই বাজেটে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলার জন্য অর্থমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ করার প্রস্তাব করেছেন। এই ঘাটতি মোকাবিলার জন্য ঋণ গ্রহণের বিপুল অর্থ যদি উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা যায়, তাহলে তা দেশবাসীর জন্য বোঝা হবে না। যদি দুর্নীতি, অপচয় ও বিলাসিতা পরিহার না করা যায়, তাহলে এই ঋণ দেশবাসীর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এদিক থেকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার (এডিপি) আকার হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬—বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। আমরা মনে করি, এই বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। তবে আমাদের কাছে মনে হয়, এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।
সমৃদ্ধির পথে আমাদের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে হলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে সংস্কার প্রয়োজন, বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সেই ধরনের কোনো সংস্কারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেশবাসীকে দিতে পারেননি। আমরা মনে করি, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি নির্মূল এবং অগ্রগতির ধারা ত্বরান্বিত করার জন্য বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রশাসনিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নাই। বাজেটে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং আয়ের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়নি। আমরা মনে করি, বাজেটে বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, যাতে আরো অধিকসংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করা যেত। বাজেটে নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকার প্রয়োজন ছিল। আমরা এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য রেশনিং চালুর সুপারিশ করছি, যাতে তারা ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে পারে। বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে আমরা শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা মনে করি, এই বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে আমরা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা আরো বৃদ্ধির দাবি জানাই।’
এই বাজেটকে সমৃদ্ধির জন্য সতর্কতার বাজেট হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি যেভাবে কোভিড মহামারিকে মোকাবিলা করেছে এবং যেভাবে অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখেছে, আমরা আশা করব সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা এই বাজেটকে গণমুখী, উন্নয়নধর্মী ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। —প্রেস বিজ্ঞপ্তি