উদয় চৌধুরী। জাগো এফএম-এর হেড অফ অপারেশন হিসেবে কর্মরত আছেন দীর্ঘদিন। পাশাপাশি নিজের মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মাণেও সফলতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বাবা-মেয়ের ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি গল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।
একটি রেডিও চ্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই
— ‘বাপ আর বেটি’ এবং ‘বাংলা কাপল’ নামে দুটো সিরিজ নিয়ে কাজ করছি। বাপ আর বেটি সিরিজে আমার মেয়ে সামিরা চৌধুরী সুজানা আর আমি বাবা-মেয়ের চমত্কার মুহূর্তগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমি এবং আমার স্ত্রী যেহেতু প্রেম করে বিয়ে করেছি তাই প্রেমের আগের এবং প্রেমের পর বিয়ে এবং সংসার জীবনের খুঁনসুটি নিয়ে চলছে আমাদের ‘বাংলা কাপল’।
সিরিজগুলো থেকে দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
খুবই ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। অল্প সময়ের ভেতর বাংলাদেশ-ভারত এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বন্ধুদের অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি এই কন্টেন্টগুলোর মাধ্যমে।
রেডিওর কাজের ব্যস্ততার মাঝে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির চিন্তা কীভাবে মাথায় এলো?
দেখুন, একটা সময় পর প্রচার মাধ্যমগুলোর পরিবর্তন হয়। আমরা যদি সেই সময়ের সঙ্গেস তাল মেলাতে না পারি তাহলে তো হবে না। বাইরের দেশের দিকে লক্ষ্য করে দেখলাম তারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তখন আমার মাথায় এলো যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হলে ডিজিটাল কন্টেন্টের দিকে মনোযোগী হতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই মূলত যাত্রা শুরু।
মেয়েকে নিয়ে ‘বাপ আর বেটি’ সিরিজটি নির্মাণ করছেন। মেয়েকে কীভাবে কন্টেন্ট তৈরিতে জড়ালেন?
আমাদের দেশের বাচ্চারা প্রতিনিয়তই বাইরের দেশের বাচ্চাদের কন্টেন্ট দেখে। আমাদের দেশীয় বাচ্চাদের কন্টেন্ট তারা সেভাবে পায় না। একদিন দেখলাম আমার মেয়ে বাইরের যে কন্টেনটগুলো দেখে সেগুলোর ভিউ অনেক এবং খুবই প্রফেশনাল। তখন চিন্তা করলাম মাত্র ৩-৪ বছরের বাচ্চা এগুলো কীভাবে মেইনটেইন করছে। পরে দেখলাম তার সঙ্গে বাবা-মা রয়েছেন। সেখান থেকে মনে হলো আমিও তো একটু চেষ্টা করে দেখতে পারি।
নাটিকাগুলো নির্মাণ করতে মেয়েকে স্ক্রিপ্ট বুঝিয়ে দিতে হয় কি-না?
প্রথম দিকে যেগুলো করতাম সেগুলো একদম ‘র’ ছিল। এমনও হতো মোবাইল অন রাখতাম কিন্তু মেয়ে বুঝতেই পারতো না। পরে যখন দেখলাম মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে তখন মনে হলো একটু গুছিয়ে কাজটি করা দরকার। এখন রেকর্ড করার আগে মেয়েকে বলে দিচ্ছি যে, মা ওভাবে না এভাবে বলো, শুনতে ভালো লাগবে। এমনকি রি-টেকও নিচ্ছি।
আপনারা যে নাটিকাগুলো করেন সেগুলো কে লেখেন?
সব আমার লেখা। যেহেতু রেডিওতে নাটক লেখা এবং পরিচালনার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে সেহেতু সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।
‘বাপ কা বেটা’র মতো বেশ কিছু অনুষ্ঠান কর্পোরেট দুনিয়ায় অফিসিয়ালি বিচরণ করেছে। আপনাদের সেরকম কোনো ইচ্ছে আছে কি-না?
না, আপাতত তেমন কোনো ইচ্ছে নেই। আমাদের পরিকল্পনা হলো গল্পগুলো তুলে ধরা। যেন দর্শকরা নিজেকে গল্পের মাঝে খুঁজে পান। কিন্তু কর্পোরেট দুনিয়ায় চলে গেলে সেই ফিলটা থাকবে না, অন্য ধাঁচে চলে যাবে।
কিন্তু কিছু প্রোডাক্ট প্রমোশনের কাজও তো করছেন!
দেখুন, যে প্রোডাক্টগুলোর প্রমোশন আমরা করছি সেগুলো কিন্তু অনলাইন নির্ভর ব্যবসার। যারা অনলাইনে এই ব্যবসাগুলো করেন তারা বলেন, প্রফেশনাল হাউজের কাছে অনেক বেশি টাকা চান প্রমোশনের জন্য। যা তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই আমি চেষ্টা করি অল্প টাকায় তাদের পণ্যগুলোর প্রমোশন করে দেওয়ার।
ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের ভবিষ্যত্ কেমন দেখতে পাচ্ছেন?
আমি তো খুবই ভালো দেখতে পাচ্ছি। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি খুবই ইতিবাচক। কারও প্রতিভা থাকলে সেটা প্রকাশ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।