পুলিশি হয়রানি ও মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রংপুরের বদরগঞ্জে ইউএনও অফিসের হেড ক্লার্ক আব্দুল মজিদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিককে জড়ানোর পায়তারা ও পুলিশি হয়রানি এবং মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার বিকেলে বদরগঞ্জ রেল ষ্টেশন চত্ত্বরে চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে লিখিত বক্তব্যে তার ছোট মেয়ে সামিহা ইয়াছমিন তুরিন জানান, ইউএনও অফিসের হেড ক্লার্ক আব্দুল মজিদের মৃত্যুর বিষয়ে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ এবং বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাদের নোটে লিপিবদ্ধ করে বলেছেন তার মৃত্যুতে কোন শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ কারণে আব্দুল মজিদের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই সময় কারও বিরুদ্ধে থানায় কিংবা আদালতে কোন প্রকার লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি। এতোসব জানার পরেও সেই মহলটির পক্ষ নিয়ে বদরগঞ্জ পৌর সভার মেয়র মহোদয় প্রতিহিংসাবশত ওই মরহুমের বাড়িতে কয়েকবার নিজে গিয়ে তার বাবা ও সন্তানদের আমার পিতার বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করতে বলেন এবং মেয়র সাহেব তাদের সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্ত তার বাবা ও সন্তানরা মেয়রের কথায় রাজি না হওয়ায় তিনি পরবর্তী সময়ে মরহুমের দ্বিতীয় স্ত্রী বিলকিস বেগমকে ধর্ম বোন বানিয়ে নানা প্রলোভন দেখিয়ে সইদার মেম্বার ও সায়েদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও আসামি করে ২ জুন বদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আবার পিতার বা আমার পারিবারের কোন সদস্যের নাম না থাকা সত্বেও পুলিশ নানাভাবে আমাদের হয়রানি করছেন। 

তুরিন আরও জানান, এই সুযোগে বদরগঞ্জ থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) নুর আলম ছিদ্দিক বারবার তদন্তের নামে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলার পাশাপাশি হুমকি দিচ্ছেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন চেয়ারম্যানি করতে গেলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে আমাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে। না হলে দোকানের সকল কর্মচারী এবং আমার ভাই তমালসহ আমার পিতার কাছের লোকদের ধরে নিয়ে জেল হাজতে ভরে রাখা হবে। একপর্যায়ে তিনি আমাদের দোকানের বিলাশ নামে এক স্টাফকে ধরে নিয়ে পাঁচ লাখ দাবি করেন। পরবর্তীতে আমরা দর কষাকষি করে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়। এখন ওই ইনসপেক্টর তদন্ত নুর আলম ছিদ্দিক বলছেন আপনারা বাচতে হলে আমার বসদের ২৫ লাখ টাকা দিতে হবে। সেই টাকা দিয়ে আমি স্যারদের ম্যানেজ করে সকল হয়রানি থেকে দুরে রেখে মামলা থেকে বাচাবো এবং আপনার পিতা শান্তিতে চেয়ারম্যানি করবে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাবে। না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখতে হবে এবং আপনার পিতাসহ সবাইকে মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে রাখা হবে। 

তুরিন আরও জানান, মামলার আসামি সইদার মেম্বার আমার পিতা শহিদুল হক মানিকের কাছ থেকে ২০১৪ সালে মেম্বার থাকাকালীন সময়ে ২ লাখ টাকা ধার নেয়। পরবর্তীতে ৬০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমার বাবা তার এলাকার লোকজনের কাছে মেম্বারের নামে বিচার দেয়। তখন ওই এলাকার লোকজন গত মাসের (২৮ মে) সইদার মেম্বারকে নিয়ে প্রথমে আমাদের বাসায় আসেন। কিন্ত আমার বাবাকে না পেয়ে তারা আমাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আমার পিতার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সইদার মেম্মারের সঙ্গে আলোচনা শেষে আমার পিতা চিকিৎসার জন্য বেলা বারো ঘটিকায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। মৃত আব্দুল মজিদ আমাদের বাসা কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেননি। মৃত আব্দুল মজিদের সঙ্গে আমার পিতার সাক্ষাৎ তো দুরের তার সঙ্গে কোন প্রকার কথাও হয়নি। কারণ আব্দুল মজিদের সঙ্গে আমাদের কোন পাওনা বা দেনা কখনও ছিল না। এর পরেও ওই চিহ্নিত মহলটি সম্মানিত সাংবাদিক ভাইদের নানান ভুল তথ্য দিয়ে চেয়ারম্যান ও আমাদের পরিবারের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করতে মনগড়া বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করে সংবাদ প্রকাশে সহযোগিতা করছেন। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের মাধ্যমে সঠিক বিষয়টি তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করত। বিনা কারণে প্রশাসনের হয়রানি থেকে বাচতে সহযোগিতা কামনা করছি। সেই সঙ্গে আমরা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে সঠিক তদন্ত করে আসল ঘটনা তুলে ধরার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করছি।  

এ বিষয়ে ওসি তদন্ত নুর আলম ছিদ্দিক জানান, তারা যে অভিযোগ করেছেন সবই ভুয়া। আমি কারো কাছে কোন টাকা চাইনি। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যানের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন ও ছোট ভাইয়ের মেয়ে সুরাইয়া সরকার সুরমাসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ।