ফের গুচ্ছে অংশ নিচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় 

যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে গুচ্ছে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষক সমিতি। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবার গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেবেন না জানিয়ে গুচ্ছের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। 

তবে গত ৩১ মে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অবস্থান থেকে তারা সরে এসেছেন জানিয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘসূত্রতা থাকবে না বলে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এসকল বিষয়গুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে তা এমুহূর্তে বলতে পারছি নাহ।

জানা যায়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগ বাদে বাকি সবগুলো বিভাগ গুচ্ছের বিপক্ষে মত দিয়েছিল। সেসময় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশ নেয়। তবে ইবির বিশেষায়িত ধর্মতত্ত্ব ইউনিট নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলাদা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে।

এদিকে প্রথমবারের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে প্রায় শতাধিক আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে গুচ্ছের বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।  

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, এ পদ্ধতিতে ভর্তির ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পদ্ধতির ভর্তি পদ্ধতিতে ফেরা জরুরি।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে পূর্বের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে না জানিয়ে ইবি শিক্ষক সমিতিকে গুচ্ছে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একারণে আমরা জটিলতা ও ভোগান্তি দূরীকরণ, গুচ্ছের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গুচ্ছের আওতায় আনা, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ইবিকে গুচ্ছের নেতৃত্ব প্রদানসহ বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়ে গুচ্ছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসকল শর্ত উপেক্ষিত হলে আগামী বছর থেকে আমরা গুচ্ছে যাবো না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে অংশ গ্রহণ করছে। সকলের সহযোগিতায় ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।