ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে গত কয়েকমাসে একটি ছবিও ব্লকবাস্টার হিট না হলেও ছবির বাইরের বিভিন্ন আলোচনায় সরব ছিল এবং রয়েছে। সম্প্রতি অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিয়েতে ওমর সানী জায়েদ খানকে চড় থাপ্পড় মেরেছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় জায়েদ পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দিয়েছেন। এমন খবরে যখন সয়লাব। তখন আমরা প্রত্যক্ষদর্শীসহ সকলের কথা প্রকাশ করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখানে পুরো ঘটনা নিয়ে ওমর সানীর বক্তব্য।
কেমন আছেন? পুরো বিষয়টি যদি খোলাশা করতেন?
কী আর বলবো! জায়েদের আচরণ তো সবাই জানি আমরা। ওর অতিমাত্রার অসদাচরণের জন্যই নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারিনি। এটাই কী স্বাভাবিক নয়? বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েই চড় থাপ্পড় মেরে ওকে বলি- মৌসুমীর সাথে বেয়াদবি না করতে। মৌসুমী এদেশের প্রিয়দর্শিনী। ওর ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলে। অথচ তার সাথে এমন বেয়াদবি। আর বিয়ের অনুষ্ঠানে রাতে সে যেভাবে নিজের কোমরের পিস্তলে হাত দিয়ে আমাকে গুলি করে দেবার হুমকি দিলো। আমি হতবাক। এবং বিস্মিত!
কিন্তু আপনারা তো একসাথে ইলেকশনও করলেন। সুসম্পর্ক দেখা যাচ্ছিল। এর আগে আপনাদের দূরত্ব ছিল সেটাও সাম্প্রতিক শিল্পী সমিতির ইলেকশনে মিটে গিয়েছিল। কবে থেকে কিভাবে এই বৈরিতা শুরু?
ইলেকশনে যোগ দেবার বিষয়টি আমি স্পষ্ট করি। দেখুন। ডিপজল ভাইকে আমি আমার পরিবার সবসময় মানি। উনি একদিন আমার বাসায় এসে বললেন, একসাথে মিলে যেতে। ইলেকশন করতে। আমার ছেলে কিন্তু নিষেধ করেছিল। তারপরও সিনিয়র বড়ভাইয়ের কথা শুনে ইলেকশনে যাই। আমি না। মৌসুমী নির্বাহী সদস্য হিসেবে ইলেকশন করে।
আপনারা একসাথে চলচ্চিত্রও করলেন- এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
হ্যাঁ। ‘সোনার চর’ ছবিটা একসাথে শুরু করলাম। জায়েদকে ছোট ভাই হিসেবেই সবসময় দেখি। কিন্তু কিছুদিনের ভেতরেই দেখলাম ওর আচরণে সমস্যা। আমি তো বাচ্চা ছেলে না। বুঝতে পারি সব। এরপর মৌসুমীকে দেয়া ওর কিছু মেসেজ দেখে আমি হতবাক! আমি ডিপজল ভাইকে গিয়ে বলি। বললাম এর বিচার করতে। বড় ভাই শুধু বললেন- জায়েদকে বলছি। ও আর বিরক্ত করবে না।
তাহলে এরপর আপনি বিচার না পেয়েই অনুষ্ঠানে মারতে গেলেন?
একটু বলে রাখি। জায়েদ খান এইসব পিস্তলবাজি অনেকদিন থেকেই করে আসছে। নোংরামির তো একটা সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। এ কারণেই আমি সবার সামনেই ওকে শাসানোর চেষ্টা করেছি। আমি ততক্ষণ নীরব থাকি ততক্ষণ থাকি যতক্ষণ পর্যন্ত আত্মসম্মানে না লাগে।
জায়েদ খান নিজেও তো আপনার থাপ্পড় মারার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বলছেন, আপনি মিথ্যা বলছেন। ডিপজল নিজেও বললেন তার বিয়েতে আগেই চেক করা হয়েছে। কেউ পিস্তল নিয়ে ঢুকতে পারে না।
দেখুন, জায়েদ একজন অস্ত্র লাইসেন্সধারী। তো একজন অস্ত্রের লাইসেন্সধারী যখন তার পিস্তল বের করার জন্য হাত দিয়ে বলবে- যে তোকে গুলি করে দিবো। এর অর্থ কী দাঁড়ায়। আপনিই বলুন। আপনার কাছেই প্রশ্ন রাখতে চাই আমি।
এখন কী আপনি বিষয়টা নিয়ে আদালতে যেতে চান?
দেখুন এমনিতেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নাজুক। আমি সবসময় শ্রদ্ধাশীল সিনিয়রদের প্রতি। আমিও একসময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করেছি। আমার সমসাময়িক, বা আগে পরে কতজনই তো ছিলেন। কই? কোনোদিন তো এরকম নোংরামির ঘটনা ঘটেনি। অথচ দেখেন এই একটি ছেলে একের পর এক ইন্ডাস্ট্রিকে কলুষিত করে চলেছে! তাই আমি আমার সিনিয়রদের কাছে বিচার দিতে চাই। শিল্পী সমিতির সভাপতি আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই, আলমগীর ভাই আছেন আমাদের আরেক অভিভাবক। ফারুক ভাই আছেন। তারা বিচার করবেন।