বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে আবারও বিবাদ। চিত্রনায়ক ওমর সানীকে পিস্তল বের করে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এই ইস্যু নিয়ে জায়েদ খান ও চলচ্চিত্রের সহকর্মীদের বক্তব্যগুলো তুলে ধরা হলো।
ইলিয়াস কাঞ্চন: ‘এটা আমার দায়-দায়িত্বের ভেতর পড়ে না। আমার কাছে যদি বিচার আসে তবে আমি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করবো। যেহেতু আমি সেখানে কী ঘটেছে সেই বিষয়ে কিছু জানি না। পত্র-পত্রিকায় নিউজ দেখছি। তাই এখনই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
ডিপজল: ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ঝগড়া-ঝাটি হয়নি। পুরোটাই অবাস্তব। এটা নিয়ে কেউ নিউজ করে তো আমার কিছু করার নেই! তাছাড়া অনুষ্ঠানে পিস্তল নিয়ে কেউ প্রবেশ করতেই পারবে না। গেটে সিকিউরিটি ছিল, আমি পুলিশ রেখেছিলাম। তারা চেক করে সবাইকে অনুষ্ঠানে ঢুকতে দিয়েছে। আমার অনুষ্ঠানে কেউ অস্ত্র নিয়ে ঢুকবে, এটা হতেই পারে না। বিষয়টি অবাস্তব এবং বানোয়াট।’
অঞ্জনা: ‘আমি রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানে ছিলাম। ডিপজল, জায়েদ খানসহ অনেকেই আমরা এক টেবিলে খেতে বসেছিলাম। তখন দেখলাম ওমর সানীকে দেখলাম সে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সেসময় আমার পাশে বসা জায়েদ তাকে ডাকছিল, ডিপজলও ডাকলো, কিন্তু অনেক রাগান্বিত হয়ে সেখান থেকে সানী বের হয়ে গেল। এই হলো ঘটনা। এত নিউজ দেখার পর আজ সানীকে আমি কল দিয়েছিলাম। ও বললো, আমি জানি আপা তুমি আমার কাছে কৈফিয়ত চাইবা। কিন্তু আমি একটা কথা বলছি, আমি জায়েদকে চড় মেরেছি। তবে কেন মেরেছি সেটা ডিপজল ভাইকে বলেছি, তোমাকে পরে বলবো। আমার একটু সন্দেহ লাগছে, সানী জায়েদকে চড় মারতে পারে কিন্তু জায়েদ এত লোকের মাঝে পিস্তল কীভাবে বের করবে! গেটে এত সিকিউরিটির মাঝে কীভাবে সে পিস্তল নিয়ে ঢুকবে! আওয়াজ তো হবে। গতকাল (পরশু) সন্ধ্যায় আমি জায়েদের সঙ্গে কথা বলেছি। জায়েদ বললো, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’
রোজিনা: ‘ওখানে কোনোকিছুই ঘটেনি। যতক্ষণ আমি ছিলাম ততক্ষণ এমন ঘটনা ঘটতে দেখিনি। ডিপজল ভাই, অঞ্জনা, জায়েদ খানসহ অনেকেই আমরা একসঙ্গে ছিলাম এবং ছবি তুলছিলাম। একটা সময় দেখেছি যে, ওমর সানী এসেছেন। তারপর কখন চলে গেছেন সেটাও জানি না। যদিও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের খবর আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে হয়, সঠিক তথ্য জেনে নিউজটা করা দরকার। এতে চলচ্চিত্রের মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য ভালো হয়। কারণ এ ধরনের সংবাদে সমাজের কাছে চলচ্চিত্রের মানুষগুলো হাস্যকর বস্তুতে পরিণত হচ্ছে।’
জাদু আজাদ: ‘বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। আমি পাশেই ছিলাম। সানী ভাই জায়েদকে মারার পরই জায়েদ পিস্তল দিয়ে গুলি করার হুমকি করে। এরপর ওমর সানী না খেয়েই বের হয়ে যান সেখান থেকে। আমার মনে হয় চলচ্চিত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য হলেও এই ছেলেটার বিচার করা প্রয়োজন।’
জায়েদ খান: ‘আমি দাঁড়িয়েছিলাম, উনি (ওমর সানী) এলেন। কথা-বার্তা হলো। মুড অফ হয়ে উনি চলে গেলেন। ঘটনা এতটুকুই ঘটেছে। উনি চড় মারলো, আর কেউ কিছু দেখলো না, উনি একাই সেটা দেখলো এবং বললো! বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেল। আমি তো অবাক হয়ে গেছি শুনে। আসলে আমার মনে হয় সেসময় তিনি নেশাগ্রস্থ ছিলেন। শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় থেকে আমাকে নিয়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এটা খুবই দুঃখজনক এবং আমাকে বিব্রত করছে। ডিপজল ভাইয়ের মতো সিনিয়র মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনিও বলছেন সেখানে কিছুই ঘটেনি। অথচ উনি বলেই যাচ্ছেন পিস্তল বের করেছে, অমুক করেছে, তমুক করেছে। যেটা আমি কখনোই করি না। তাছাড়া কনভেনশন সেন্টারে মেটাল ডিডেক্টর থেকে নানা সিকিরিউটির ব্যবস্থা থাকে। সেখানে তো কেউ অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারে না। আমরা তো শিল্পী। আমরা মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছি।’