একটি ঘর ও বিদ্যুৎ সংযোগ চান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আজগর আলী

আজগর আলী (৬৮)। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এই গ্রীষ্মে ভাঙাচুরা টিনের একচালায় সারাক্ষণ গরমে ছটফট করেন। গত একবছর ধরে ঘুরেও পল্লী বিদ্যুতের লাইন পাননি অসুস্থ অসহায় মানুষটি। ঘর নাই। বাড়ি নাই। মাথা গোঁজার জন্য নাই এক টুকরো জমি। থাকেন মেয়ের কেনা জমিতে। ছেলে পাওয়ারলুম শ্রমিক সেন্টু অন্ধ বাবার খোঁজ রাখেন না। 

স্বাধীনের আগে ও পরে তার দুটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার দাইরাদী গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলীকে সবাই ঝালমুড়ি বিক্রেতা হিসেবেই চেনেন। ভিক্ষা না করে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন বলে আশেপাশের দশ গ্রামের মানুষ তাকে সমীহ করতেন।  
 
প্রতিবন্ধী হয়েও জীবনে কারো কাছে হাত পাতেননি। ভিক্ষা না করে কাজ করেছেন। ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। দীর্ঘ ৫০ বছর স্ত্রী খুরশিদা বেগমের কাধে হাত রেখে হাটে-বাজারে ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রি করে অভাবের সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই একসময় ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। অথচ জীবনের শেষ বেলায় মাথার ওপর একটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের পাখা ঘোরাতে পারছেন না। পল্লী বিদ্যুতের লাইন পাচ্ছেন না অসহায় মানুষটি।

জীবন যুদ্ধে কখনো হার মানেননি অন্ধ আজগর আলী। জীবন সায়াহ্নে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঝালমুড়ি বিক্রি করতে পারেন না। 

মেয়ের কেনা জমিতে ঠাঁই মিলেছে। দু’বেলা খেতে পান। মেয়ে রত্না বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঠাঁই দিয়েছেন স্বামীর বাড়িতে। পুরনো টিন দিয়ে কোনোমতে একটি ছোট একচালা বানিয়ে দিয়েছেন। কোনোমতে একটি চৌকি পেতে সেখানে রাত কাটান। বাথরুমের দরজা নেই। 

আজগর আলী দিনে দিনে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন গরমে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘শেখ সাবের মাইয়ার কাছে গেলে মনে অয় লাইনটা পাইতাম। একটা ঘরও পাইতাম।’

এ ব্যাপারে গোপালদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমি কয়েকবার চাচার (আজগর আলী) নাম পাঠাইছি। কিন্তু এখনও ঘর বরাদ্দ আসে নাই। আমি আবার নাম দিছি।’

এদিকে, বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপারে গোপালদী পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ছারওয়ার জাহান বলেন, ‘আমার অফিসে যথাযথভাবে আবেদন করা হয় নাই। তা-ছাড়া স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছে।’

আড়াইহাজার উপজেলার ইউএনও মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অন্ধ আজগর আলীর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আগামীতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর দেওয়া হবে।’