মেঘনার ভাঙনের কবলে সরাইলের চার গ্রাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পালপাড়া, পানিশ্বর, শাখাইতি ও দেওবাড়িয়া গ্রাম চারটি মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। এ গ্রামগুলোর এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ বছরও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। অব্যাহত ভাঙনে গত চার দশকে পানিশ্বর গ্রামটির তিন-চতুর্থাংশ বিলীন হয়ে গেছে। বাকিটুকু বিলীনের পথে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছর ধরে এখানে তীব্র নদীভাঙন চলছে। এর মধ্যে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে শোলাবাড়ী গ্রামের ১০টি, পানিশ্বর গ্রামের তিনটি ও শাখাইতি গ্রামের ১৪টি চাতাল কল। এ সময়ের মধ্যে শতাধিক পরিবার সম্পূর্ণভাবে ভিটাছাড়া হয়েছে। অর্ধশতাধিক পরিবার আংশিক ভাঙনের শিকার হয়েছে।

শাখাইতি গ্রামের বাসিন্দা ওসমান গণি চৌধুরী (৭০) ও সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া (৪০) বলেন, নদীভাঙন রোধ করতে না পারলে অচিরেই পানিশ্বর বাজার, পানিশ্বর উচ্চবিদ্যালয়, শাখাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শোলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। শাখাইতি গ্রামের ইউপি সদস্য সাদু মিয়া বলেন, গত চার/পাঁচ বছরে নদীভাঙনের শিকার হয়ে অন্তত ১০০ পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। এ বছর নতুন করে ভাঙনের কারণে আটটি পরিবারের বসতবাড়ি ও প্রায় পাঁচ একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার এ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। গ্রামের বাসিন্দারা সর্বক্ষণ ভীতি আর আতঙ্কে সময় পার করছে।

পানিশ্বর ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে এখানে নদীভাঙন চলছে। বেশ কয়েক জন রাইস মিল মালিক নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেছি। গ্রামগুলো রক্ষা করতে হলে এখনই পাথর বা বালির বস্তা ফেলতে হবে। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে এখানে স্হায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল হক বলেন, পানিশ্বর ইউনিয়নে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করে একটি চিঠি দিয়েছি।