অযত্ন আর অবহেলায় গ্রাম-বাংলার পথে প্রান্তরে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা ফুলগাছ শটি। এটি বর্ষজীবী গুল্ম ও কন্দ জাতীয় উদ্ভিদ। অঞ্চলভেদে শটি বনহলুদ, জংলি হলুদ, হুইড ইত্যাদি নামে পরিচিত। গাছ উচ্চতায় গড়ে ৩ থেকে ৪ ফুট হয়। পাতা বেশ বড়। রং সবুজ, অগ্রভাগ সূচালো, মধ্যশিরা স্পষ্ট। তবে পাতার অগ্রভাগের উপরিঅংশ কিছুটা লালচে রঙের। গাছ দেখতে প্রায় হলুদ গাছের মতো। তবে শটির কন্দমূল সাদা আর হলুদের কন্দমূল হলুদ। হলুদের পাতা চওড়ায় কম, শটির পাতা চওড়ায় বেশি। শটিগাছের জীবনকাল ৭-৮ মাস। বাকি সময়টাতে এর কন্দ মাটির নিচে থাকে সুপ্ত অবস্থায়। শীতে শটিগাছ মরে যায়। বসন্তের শেষদিকে গ্রীষ্মের শুরুতে একপশলা বৃষ্টি পাবার পর মাটিতে যখন উপযুক্ত রস আসে, সঙ্গে সঙ্গে গাছ মাটি ফুঁড়ে বেরোয়। অর্থাত্ কন্দ থেকে নতুন করে চারাগাছ জন্মে ও ফুল ফোটে। ফুল বড় মঞ্জরিদণ্ডে ঊর্ধ্বমুখী। দণ্ডে পাপড়িগুলি সুবিন্যস্তভাবে সাজানো থাকে। দণ্ড দৈর্ঘ্যে প্রায় ৮-১০ ইঞ্চি হয়ে থাকে। ফুটন্ত ফুল লাল, গোলাপি-লাল, বেগুনি ও হলুদ আভায় মিশ্রিত— দৃষ্টিনন্দন ও নজরকাড়া।
কন্দের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়। শটি যেখানে জন্ম নেয় সেখানে ঝোপালো আকার ধারণ করে। একবার কন্দ থেকে চারাগাছ জন্ম নিলে চারা ও গাছের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। শটি ফুলগাছ বেশ কষ্টসহিষ্ণু। রোগ ও পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে শটিগাছ জন্মে। অনুর্বর, আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে ও হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে ভালো বাড়বাড়তি হয়। পলিথিনের ব্যবহার শুরুর আগে শটিগাছের পাতা গ্রামীণ জনপদে নানান কাজে ব্যবহার হতো। যেমন লবণ, গুড়, মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি হাট-বাজারে শটিপাতায় মুড়ে দিতে দেখা যেত। গ্রাম-বাংলায় কোথাও কোথাও এই ব্যবহার এখনো চোখে পড়ে।
শটিগাছের রয়েছে ভেষজ নানান গুণ। এতে আছে সিনিওল সেসকুইটারপিন। শটির কন্দ থেকে তৈরি করা বার্লি ডায়রিয়া ও জ্বর নিবারণে কাজ করে। পেট ফাঁপা ও নানা চর্মরোগে ব্যবহূত হয়। কেউ কেউ শটির কন্দ সবজি হিসেবে খেয়ে থাকেন।