সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও সারাদিন হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি ছিল। মে মাসের শেষের দিকে কয়েকদিন বর্ষণ বিরতি থাকলেও জুন মাসের শুরু থেকে সিলেটে আবারও টানা বর্ষণ শুরু হয়। একটানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কানাইঘাটের সুরমা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, আগামী ১০ দিনের আবহাওয়া পূর্বাভাসে সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে ১৪-১৫ এবং ১৭-১৯ জুন ভারী বর্ষণ হতে পারে। বাকি দিনগুলোতে থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২৩ জুন পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় জানায়, কানাইঘাটে সুরমার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেমি ওপর দিয়ে এবং সিলেটে ৫২ সেমি ও অমলসিদে কুশিয়ারা ২ দশমিক ৪৫ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন স্থানে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সর্বত্র জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ইতোমধ্যে ধলাই ও পিয়াইন নদীর পানি উপচে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের খামার। গ্রামের অনেক রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে পানি বাড়ায় জনমনে আবারও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধলাই নদী তীরবর্তী চাঁনপুর, শিলেরভাঙ্গা ও দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, আগের বন্যায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে ৭ হেক্টরের মতো শাকসবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের লাখো মানুষ বিপাকে। পাহাড়ি ঢলে বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা সাব-মার্সিবল সড়ক ডুবে যান চলাচল দুদিন থেকে ব্যাহত। সপ্তাহের ব্যবধানে দোয়ারাবাজারে উপচেপড়া পানিতে আবারও নদীনালা, খালবিল, হাওর-বাওর, মাঠঘাট ও জল-স্থল একাকার হয়ে পড়ছে। গবাদি পশুপাখি নিয়ে আবারও বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামার মালিকরা। অনেক টিউবওয়েল পানিতে ডুবে যাওয়াসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পেটের পীড়া, চর্মরোগ ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের উপসর্গ এখনো পুরোদমে নির্মূল হয়নি। বিভিন্ন কাঁচা-পাকা সড়ক আবারও নানা স্থানে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সুরমা, বগুলা ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপ্রায়।
এদিকে প্রথম দফা বন্যায় উঠতি আউশ ফসল, আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও অধিকাংশ মাছের পুকুর তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন হাজারো পরিবার। প্রথম দফা বন্যার রেশ না কাটতেই ফের বন্যা দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মানুষ।