ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর

পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিপক্ষে পুরো হোম সিরিজ থেকেই বিশ্রাম নিয়েছেন জেসন হোল্ডার। গতি তারকা শ্যানন গ্যাব্রিয়েলও টেস্ট সিরিজে নেই। ফিটনেস টেস্ট উতরাতে না পেরে প্রথম টেস্টের দলে নেই অভিজ্ঞ কেমার রোচও। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তাই ক্যারিবিয়ানদের পেস আক্রমণ কিছুটা অনভিজ্ঞই বটে।

সাকুল্যে ২০ টেস্ট খেলা আলজারি জোসেফই সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার। সঙ্গে জেডেন সিলস, অ্যান্ডারসন ফিলিপরা আছেন। এই ফাস্ট বোলাররা কিছুটা ক্লান্তও। সদ্যই পাকিস্তান সফরে টানা তিনটি ওয়ানডে খেলে দেশে ফিরেছেন তারা। টেস্ট সিরিজের প্রস্ত্ততির জন্য খুব বেশি সময় নেই তাদের হাতে।

বাংলাদেশের টেস্ট দলেও অবশ্য ইনজুরির কারণে দুই নির্ভরযোগ্য পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম নেই। দুজনই ক্যারিবিয়ানে আসবেন সীমিত ওভারের সিরিজে। তাদের অনুপস্হিতিতে এক বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। পেস আক্রমণে তিনিই এ সিরিজে টাইগারদের মূল ভরসা। সঙ্গে আছেন টেস্টের নিয়মিত পেসার এবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদরা।

সবমিলিয়ে বাংলাদেশের পেসার আল-আমিন হোসেনের মতে, এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্বাগতিকদের চেয়ে অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের পেস আক্রমণই এগিয়ে। সফরে টাইগারদের জয়ের পূর্বশর্ত ব্যাটিংয়ে ভালো করতে হবে। তার মতে, ব্যাটাররা ভালো করলেই রেজাল্ট পক্ষে আসবে।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে ৩২ বছর বয়সী পেসার আল-আমিন বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ওদের পেস বোলিংয়ের চেয়ে আমাদের পেস বোলিং অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে। দেশের বাইরে চ্যালেঞ্জ সবসময় ব্যাটারদের। দক্ষিণ আফ্রিকাতে পেসার, স্পিনাররা ভালোই করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ব্যাটাররা ভালো করলে ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’ অ্যান্টিগায় আগামী ১৬ জুন শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট।

একটা সময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন আল-আমিনও। সর্বশেষ ২০২০ সালে জাতীয় দলে খেলা ডানহাতি এ পেসার এখনো হাল ছাড়েননি। জাতীয় দলে ফেরার আশায় কঠোর পরিশ্রম করছেন।

রুবেল, আল-আমিন, শফিউলদের যুগ পেরিয়ে জাতীয় দলে এখন তাসকিন, মুস্তাফিজ, শরিফুল, এবাদতরা নিয়মিত খেলছেন। আল-আমিন মনে করেন, দেশে পেসারদের বিপ্লব চলছে। তিনি বলেছেন, ‘এখন বাংলাদেশে পেস বোলিং বিপ্লব চলছে। তিন-চারটা করে পেস বোলার খেলে। যারা বাইরে আছে তারাও খুব ভালো করছে।’

জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টায় ঘাটতি নেই আল-আমিনের। বাংলাদেশের হয়ে ৭ টেস্ট, ১৫ ওয়ানডে ও ৩১টি-২০ খেলা এ পেসার বলেছেন, ‘ক্রিকেট খেলতে হলে জাতীয় দলের মতো জাতীয় দলের বাইরেও খেলতে হবে। এটাই আসলে জীবন। যখন জাতীয় দলে খেলিনি তখন তো বাইরে পারফরম করেই দলে ঢুকেছি। ইনজুরির কারণে জাতীয় দলে ছিলাম না। চেষ্টা করছি পারফর্ম করে কীভাবে আবার কামব্যাক করা যায়।’ মিরপুর স্টেডিয়ামে এখন ক্যাম্পে স্কিল নিয়ে কাজ করছেন আল-আমিন। আগামী মাসে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাওয়ার আশায় নিজেকে প্রস্ত্তত করছেন অভিজ্ঞ এ পেসার।