সুনীলের মতো একজন নেই লালসবুজের দলে

গতকাল সন্ধ্যায় হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারত তৃতীয় বারের মতো এশিয়ান কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কলকাতায় সল্ট লেকের মাঠে নামার আগেই ভারতীয় শিবিরে খবর চলে আসে অন্য গ্রুপে ফিলিস্তিন ৪-০ গোলে ফিলিপাইনকে হারানোয় ভারতের জন্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বের দরজা খুলে গিয়েছে।

‘ডি’ গ্রুপে খেলছে ভারত। হংকং, আফগানিস্তান এবং কম্বোডিয়া রয়েছে ভারতের সঙ্গী। হংকং ম্যাচের আগেই কম্বোডিয়াকে (২-০) এবং আফগানিস্তাকে (২-১) হারায় ভারত। এই দুই ম্যাচে অধিনায়ক সুনীল ছেত্রি ৩ গোল করেছেন। ভারতকে এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে তোলার সবচেয়ে বড় কাজটি করে দিয়েছেন সুনীল ছেত্রি।

সবার লক্ষ্য ৩৭ বছর বয়সী সুনীলের দিকে। যে তিনটি গোল করেছেন তিনি তা ছিল দেখার মতো। ভারতবর্ষ তার গোল তিনটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। এই বয়সেও সুনীল ছেত্রি ভারতের ফুটবলের ত্রাতা হয়ে রয়েছেন। বয়স যত বাড়ছে ব্যক্তিগত পরিশ্রমও বাড়ছে। কীভাবে দেশের জন্য ভালো কিছু করা যায় তা নিয়ে ভাবনা সুনীলের। এমন একজন বাংলাদেশের বর্তমান ফুটবলে নেই। তার মতো একজন ফুটবলার খুব বেশি প্রয়োজন এদেশের ফুটবলে। যিনি সময়ের প্রয়োজনে দলকে টেনে তুলতে পারেন। তাই হয়তো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সুনীলকে নিয়ে বেশি মেতে ওঠে।

২০১৩ সাফে নেপালের হালচুক মাঠে ভারতের বিপক্ষে ৮২ মিনিটে আতিকুর রহমান মিশুর গোলে বাংলাদেশ (১-০) এগিয়ে ছিল, মামুনুলদের ছেলেমানুষি ভুলে ইনজুরি টাইমে দুর্দান্ত একটা ফ্রিকিকে সুনীল গোল করলেন ১-১। ম্যাচটা ড্র হওয়ায় কপাল পুড়েছিল বাংলাদেশের। পরদিন কাঠমান্ডুতে কোথাও থেকে ফিরে হোটেলে ঢুকছিলেন দলের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্তিমাচ এবং সুনীল। কোচের ডান হাত সুনীলের ঘাড়ে দেখেছেন সাফ কাভার করতে যাওয়া বাংলাদেশের একাধিক সাংবাদিক। চোখে ভেসে উঠল আগের দিন কীভাবে বাংলাদেশের জালে দর্শনীয় ফ্রি কিক করেছিলেন সুনীল। সেই ফ্রিকিক আজও ভুলতে পারেনি ভারতীয় ফুটবল দর্শক।

এবার এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে গোল করেছেন সেভাবেই। আজও ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্তিমাচের ভরসা সুনীলের ওপর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সুনীল খেলা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। আর কোচ বলছেন সুনীলকে ছাড়া খেলার কথা ভাবতেও পারেন না। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০০ গোল করার আগে না কি সুনীলকে অবসর নিতে দেবেন না কোচ। এই একটা কথাতেই পরিষ্কার জাতীয় দলে সুনীল নিজের অবস্হানটা কতখানি পাকা করেছেন। পরিশ্রমের মূল্য এভাবেই হয়। অবসরের কথা উঠলে ইগর সংবাদমাধ্যমকে এই প্রশ্ন না করার অনুরোধ করে বললেন, ‘ফুটবলের প্রতি সুনীলের যে দায়বদ্ধতা, এটার তুলনা হয় না।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৭ বছর পূর্ণ করলো সুনীল। এতেটা সফল, তার পরও ভেতরে নেই এইটুকু অহংকার।

বাংলাদেশ যেখানে এশিয়ান কাপে গিয়ে খাবি খাচ্ছে আর উল্টো দিকে ভারত আনন্দে মেতে উঠছে। দলের নায়ক সুনীলের কথা বার বার উপমহাদেশের ফুটবলে উড়ে বেড়াচ্ছে। এক সময় মুন্না, রুমী, আসলামদের কথা যেভাবে ভেসে বেড়াতো। এখনকার ফুটবলে সেটি নেই। সুনীলদের কোচ স্তিমাচ সুনীলকে নিয়ে গর্ব করেন। আর এখানে এমন একজন ফুটবলার নেই যিনি ক্যারিশমা দিয়ে দেশের জাতীয় দলকে টেনে নিতে পারবেন। যাকে নিয়ে কোচ বড় গলায় কথা বলতে পারবেন। যদি থাকত তাহলে নাবীব নেওয়াজ জীবনকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঢুকতে দেওয়া হতো। হোটেল লবি থেকে ফিরে যেতে হতো না তাকে।