জমে উঠেছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

জমে উঠেছে রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড ময়দানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ইতিমধ্যে মাসব্যাপী এই মেলার ১৫ দিন সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়, গরম উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত ২৯তম এই মেলায় দিন দিন নানা বয়েসি ক্রেতা-দর্শকের ভিড় বেড়েই চলেছে। সপ্তাহে সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার মেলায় নামছে মাঠ উপচানো ভিড়। এ সময় সন্ধ্যার পর এই ভিড় সামলাতে ট্রাফিক পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মেলা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মেলায় নারী, শিশু, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ তরুণ প্রজন্মের মানুষের ভিড়ই বেশি হচ্ছে বলে ইত্তেফাককে জানান, মেলা কমিটির চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম চেম্বার কর্মকর্তা এ কে এম আকতার হোসেন। এবার কোনো এত ভিড় জানতে চাইলে তিনি জানান, করোনা-১৯ সংক্রমণের কারণে চট্টগ্রামে গত দুই বছর এই মেলা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। তার ওপর সুন্দর ব্যবস্থাপনা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপক সহায়তা, চীন, ইরান, ভারত ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক স্টলসমূহের আকর্ষণীয় পণ্য সম্ভার, ঢাকাসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে রপ্তানিযোগ্য আন্তর্জাতিকমানের পণ্যের উপস্থাপন মেলার প্রতি ত্রেতাদের প্রচণ্ড রকম আকৃষ্ট করেছে। পোশাক, ক্রোকারিজ, ফার্নিচার, খাদ্যপণ্য, অলংকারসামগ্রী, প্রসাধনী, আধুনিক গৃহস্থালি পণ্যে মেলা সমৃদ্ধ রূপ ধারণ করেছে। মেলায় এবারও জনপ্রতি টিকিট মিলছে মাত্র ১৫ টাকায়। মেলায় জনসমাগম বৃদ্ধিতে এটাও একটা অন্যতম কারণ হতে পারে বলে তিনি জানান।

এবারের মেলায় যথারীতি রয়েছে ব্যাংক, ফায়ার সার্ভিস, ভ্যাট স্টেশন ও পুলিশ ফাঁড়ি। ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানি, ফুচকা, চটপটি, কাবাব, আইসক্রিম, আচার, কফি হাউজসহ হরেক রকম খাবারের দোকান। এসেছে নার্সারি, বইয়ের দোকান। পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিশুদের খেলাধুলার জন্য পাইরেট বোট, টয় ট্রেন, স্পি্রঙ্গ বোর্ড, ভূতের ঘর বা ঘোস্ট হাউস। প্রতিটিতে জনপ্রতি ৫০ টাকায় রাইড উপভোগ করার সুযোগ। মেলায় এবার ৪ লাখ বর্গফুটের মাঠ জুড়ে ১৭টি প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন, ৩৩টি প্রিমিয়ার স্টল, ৯৯টি গোল্ড স্টল, ১৪টি ফুড স্টল, দুটি পৃথক আন্তর্জাতিক জোনের ৩৭০টি স্টলে ৩১০টি প্রতিষ্ঠানের বর্ণাঢ্য অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রবেশ পথে এবার স্থপতি ইমরানের বাঁশ ও কাপড় দিয়ে করা একটি অপূর্ব স্হাপনাশিল্প দর্শকদের মুগ্ধ করছে। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি জোনে বসেছে অসংখ্য সিসি ক্যামেরা। মেলা পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রাম চেম্বার ও মেলা কমিটির দপ্তর দিনরাত খোলা। মেলাতে ঢুকতেই হাতের বাঁ পাশে চট্টগ্রামস্থ ভারতের সহকারী হাইকমিশনের ছাত্রভিসা ও ভারতে অধ্যয়নেচ্ছুদের জন্য একটি বুথ ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক সহযোগিতা করছে। মেলায় মেলা কমিটির দপ্তরের পাশেই চট্টগ্রাম চেম্বারের বঙ্গবন্ধু কর্নার জাতির জনকের নানা ইতিহাসভিত্তিক পোস্টার প্রদর্শনীতে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এক নজরে মেলার প্যাভেলিয়ন ও স্টলগুলো হচ্ছে, দুবাই বোরখা বাজার, ফলদ, বনজ ও অর্নামেন্টাল গাছের চারা নিয়ে ব্র্যাক নার্সারি, ক্রেকারিজ ও ইলেক্টে্রানিক পণ্যের সম্ভার নিয়ে গোল্ডেন ইনফিনিটি লিমিটেড, জান্নাত কার্পেট হাউস, ঢাকা-টাঙ্গাইলের রিঙ্গো রুটি মেকার, মেঘলা ফেব্রিক্স, রঙধনু গার্মেন্টস আইটেম, এঅ্যান্ডজেড করপোরেশন ইলেক্ট্রনিক, পুনাক, চাঁদপুর মৃত্শিল্প, ঢাকাই জামদানি, কাঠের রুটি মেকার, হক এন্টারপ্রাইজ, আরএফএলের স্টলসমূহ যথাক্রমে ইটালিয়ানো, মিঠাই, টেস্টি ট্রিট, ওয়াকার, ঢাকার বিক্রমপুরের ক্রোকারিজ, স্টার কাবাব, হোম টেক্সটাইল ইত্যাদি। এদিকে মেলা শেষ হবে আগামী ৩০ জুন। মেলা কমিটির চেয়ারম্যান জানালেন মেলার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।