কাতার বিশ্বকাপ : ৩২ দেশ চূড়ান্ত

শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে কোস্টারিকা

শেষ হলো মূল মঞ্চে ওঠার ৩২ দেশের যুদ্ধ। ৩১ দেশ কনফার্ম ছিল। মঙ্গলবার রাতে কাতারে আহমাদ বিন আলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় প্লেঅফে ৩২ নম্বর দেশটিও চূড়ান্ত হয়ে গেল। কোস্টারিকা ১-০ গোলে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ৩২ নম্বর দেশ হিসাবে মঞ্চে উঠে এলো। খেলার তৃতীয় মিনিটে স্ট্রাইকার ক্যাম্বেল গোল করেন। এই একটা গোলই ম্যাচের বাকিটা সময় ধরে রেখেছিল কোস্টারিকা। নিউজিল্যান্ড হাজারো চেষ্টা করেও গোলটা শোধ করতে পারেনি। তাসমানপারের দেশ নিউজিল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে গেল। তাদের আগে অস্ট্রেলিয়া কাতার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে তাকিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের দিকে। চোখে জল নিয়ে নিউজিল্যান্ড ফিরল ঘরে।

কাতারে গত এপ্রিলে বিশ্বকাপের ড্র হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল তিনটি দেশের ভাগ্য। গ্রুপ পর্বে তিনটি দেশের জন্য তিন জায়গায় ফাঁকা রাখা ছিল। ইউরোপিয়ান প্লে-অফ থেকে ওয়েলস এসেছে কাতার বিশ্বকাপে। এএফসি ও কনমেবল অঞ্চলের প্লেঅফে থেকে অস্ট্রেলিয়া আর এবং কনকাকাফ-ওশেনিয়া অঞ্চলের প্লেঅফে কোস্টারিকা বিশ্বকাপে এসেছে। ৩২ দেশ ছক করে ফেলছে কীভাবে তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করবে। সেই পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে এবার চূড়ান্ত পর্বের প্রস্ত্ততির পালা।

দুঃখ ইতালির। তারা ইউরোপিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হলেও বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।২১ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর কাতার বিশ্বকাপের খেলা হবে দোহায়, আট স্টেডিয়ামে। যেখানে একটা খেলা দেখে আরেকটা স্টেডিয়ামে যাওয়া যাবে। যদি টিকিট হাতে থাকে খেলাও দেখা যাবে। ১৯৩৮ সালে বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসাবে খেলেছিল তৎকালীন ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ। যেটি এখন ইন্দোনেশিয়া নামে পরিচিত।

ইন্দোনেশিয়া তখন স্বাধীন ছিল না। এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো সবচেয়ে বড় আসর বসতে যাচ্ছে এশিয়ায়। আর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল। ১৯৯৮ সালে এশিয়া হতে ৪টি দেশ বিশ্বকাপে খেলেছিল। ২০১৮ সালে সংখ্যা একটা বাড়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য। আসছে বিশ্বকাপে এশিয়া হতে ৬ দেশ খেলার সুযোগ পেয়েছে। ইরান, সৌদি আরব, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া। আর বিশ্বকাপ আয়োজন করার সুবাদে কাতার সরাসরি খেলাবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। ৪২ দেশ নিয়ে খেলা হবে। এশিয়ার কোটাও বাড়বে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের ফুটবল দর্শক ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, পতু‌র্গালকে পছন্দ করলেও এশিয়ার দেশগুলোর দিকেও নজর রাখবে। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া সেমিফাইনালে উঠে চমকে দিয়েছিল।