চট্টগ্রামে চাহিদা অনুপাতে এবার কোরবানির পশুর ঘাটতি প্রায় ৩০ হাজার। গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে খামারিয়া গরু মোটাতাজা কম করেছে। এতে এবার পশুর দাম বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিয়া। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছরেই কোরবানির বাজারে মাঝারি ও ছোট আকৃতির গরুর চাহিদা বেশি থাকে। বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এবার সেই সাইজের গরু বেশি মোটাতাজা করা হয়েছে। গত বছর বড় আকৃতির গরু অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে অনেক খামারিকে লোকসান দিতে হয়েছে।
খামারিদের অভিযোগ কয়েক জন মিলমালিক সিন্ডিকেট করে দেশ থেকে সয়াবিন রপ্তানি করছেন। আমদানি করা সয়াবিন মিল রপ্তানিতে দেশের কোনো লাভ হয় না। এতে স্থানীয় বাজারকে অস্থির করে তোলা হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর বছর মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কোরবানিতে মন্দার প্রভাব পড়েছিল। যার কারণে বিগত ২ বছর কোরবানির বাজারে ২ লাখ টাকার বেশি দামের গরু বিক্রি কম হয়েছে। বাজার গুলোতে সর্বনিম্ন ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের গরুর চাহিদা ছিল বেশি। শেষ বাজারে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুর সংকট দেখা দেয়। অনেকেই বড় গরু বিক্রি করতে না পেরে ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে এবার খামারি ও গৃহস্থালিরা মাঝারি ও ছোট গরু বেশি মোটা তাজা করেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায় চট্টগ্রাম জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার। তার বিপরীতে এবার স্থানীয় ভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি। এতে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৯৯টি। যার মধ্যে গবাদ পশু ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৩টি। মহিষ ৬৬ হাজার ২৩৭টি, ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৮৯ হাজার৩৬২টি। গত বছর চট্টগ্রামে উৎপাদন হয়েছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি, আর কোরবানির পশু জবাই হয়েছিল ৭ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৫টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, চট্টগ্রামে নিবন্ধিত খামার রয়েছে ৮ হাজার ১৭১টি। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে মীরসরাই, কর্ণফুলী,পটিয়া, সীতাকুন্ড, ফটিকছড়ি,আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলায়। চট্টগ্রামে খামারি ছাড়াও অনেকেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে দুই/তিনটি করে কোরবানির পশু মোটাতাজা করে থাকেন। খামারিয়া গোখাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। আর গ্রামের কৃষকরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয়। বাণিজ্যিক খামারিয়া দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল। তারা কোটি টাকা বিনিয়োগ করে খামার করলেও ঘাসের ব্যবস্থা করে না।
খামারি মালিক মো. ওমর বলেন,এবার কোরবানির বাজারে চাহিদার অর্ধেক গরু পাওয়া যাবে। ভারত থেকে পশু আসেনি। গোখাদ্যের দাম বাড়তি হওয়ায় স্থানীয় ভাবে কম মোটাতাজা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে চাহিদা অনুপাতে প্রতি বছরই পশুর ঘাটতি থাকে। গোখাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। খামারিয়া মোটাতাজা কম করেছে। তবে মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা উত্তরাঞ্চল থেকে কোরবানির পশু আনলে ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। গোখাদ্যের দাম বেশি থাকায় বেপারীরা এখনো কোরবানির পশু আনেনি। আরো কিছুদিন পরে আনবে।’