ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ
দল রান সাল ভেন্যু
ইংল্যান্ড ৩৯১/৪ ২০০৫ নটিংহ্যাম
ইংল্যান্ড ৩৮৬/৬ ২০১৯ কার্ডিফ
পাকিস্তান ৩৮৫/৭ ২০১০ ডাম্বুলা
ভারত ৩৭০/ ৪ ২০১১ মিরপুর
দ. আফ্রিকা ৩৬৯/৬ ২০১৭ ইস্ট লন্ডন
কয়েকদিন কাভারে ঢাকা থাকলেও রান গর্ভের পরিচয়টা হারিয়ে ফেলেনি কার্ডিফের উইকেট। গতকাল সকালে রোদের স্পর্শ পাওয়া উইকেটে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা অনুমিতভাবেই রান উত্সব করেছেন। নির্জলা ব্যাটিং উইকেটে টস হেরে ব্যাট করার সুযোগটা তাই স্বাগতিকদের জন্য শাপেবর হয়েই ধরা দিয়েছিল।
জ্যাসন রয়, জনি বেয়ারস্টোদের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে লাগাম টানার অনেক চেষ্টাই করেছে বাংলাদেশ। মাঝে মাঝে গতি রোধ করা গিয়েছিল। তাদেরকে নিভৃত রাখাটা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। কারণ উইকেটে এসেই ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা তোপ দাগাতে খুব বেশি সময় নেননি। জ্যাসন রয়-বেয়ারস্টোর শুরু করা রান মিছিলের শেষ দিকটার প্রতিনিধিত্ব করেছেন জস বাটলার, প্লাঙ্কেট, ক্রিস ওকসরা। তাতেই ৬ উইকেটে ৩৮৬ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়েছে ইংল্যান্ড।
রানের উইকেটে রানের ছড়াছড়ি সহজ-স্বাভাবিক দৃশ্য বটে। তবে গতকাল কার্ডিফে সবচেয়ে দৃষ্টিকটু হয়ে চোখে পড়েছিল বাংলাদেশের ছন্নছাড়া ফিল্ডিং। মিস ফিল্ডিংয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। যা স্বাগতিকদের রানের গতিকে ত্বরান্বিত করেছে। বাংলাদেশের দলটাকেও বিবর্ণ করে তুলেছিল। শেষদিকে অনেকটাই যেন হতোদ্যম হয়ে পড়েছিলেন ফিল্ডাররা।
গোটা ইনিংসে মিস ফিল্ডিং হয়েছে অন্তত ছয়বার। যেখানে ১ রান হয়, মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে বাড়তি আরেকটি রান হয়েছে পাঁচবার। মিস ফিল্ডিংয়ে চারও হয়েছে। উল্টো প্রান্তে থ্রো হয়েছে। রান শেষ হয়ে গেছে উইকেটকিপার বা বোলারের কাছে বল না দেয়ার খেসারতও দিয়েছে বাংলাদেশ। ওই সুযোগেও রান নিয়েছে ইংল্যান্ড।
মাশরাফির বলে তিনবার, মুস্তাফিজের বোলিংয়ে দুইবার ও মিরাজের বোলিংয়ে একবার মিস ফিল্ডিং হয়েছে। ক্যাচ মিসও হয়েছে একবার। ৪৭তম ওভারে মরগানের ক্যাচ ফেলেছিলেন তামিম। অবশ্য পরের বলেই আউট হয়েছিলেন মরগান।
এক রানের জায়গায় দুই রান হয়েছে এমন ঘটনা হয়েছে, মাশরাফির করা ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে, মুস্তাফিজের করা ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে, মাশরাফির করা ১৮তম ওভারের শেষ বলে, মাশরাফির করা ২৬তম ওভারের চতুর্থ বলে, মিরাজের করা ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে। ২৭তম ওভারের পঞ্চম বলে তো মিস ফিল্ডিংয়ের বদৌলতে পাওয়া চারে ক্যারিয়ারের নবম ও বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরিই পূর্ণ করেন জ্যাসন রয়।
বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল বড্ড নাজুক। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশের ফিল্ডারদের চাপে ফেলে ২২ বার ২ রান নিয়েছেন। মানে ৪৪ রানই তারা ডাবলসের মাধ্যমে নেন। এছাড়া সাকিবের করা নবম ওভারে ডিপ মিড উইকেটে বল পাঠিয়ে দৌড়েই চার রান জ্যাসন রয়-বেয়ারস্টো। আর চার-ছক্কায় ইংলিশরা তুলেছিল ১৯৬ রান। যেখানে ১৪ ছক্কায় ৮৪ রান ও ২৮টি চারে ১১২ রান তোলেন স্বাগতিকরা।
বল হাতে একটা গলদঘর্ম দিন পার করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। জ্যাসন রয়ের ১২১ বলে ১৫৩ রান (১৪ চার, ৫ ছয়), বেয়ারস্টোর ৫১, বাটলারের ৪৪ বলে ৬৪, ক্রিস ওকসের ৮ বলে অপরাজিত ১৮, প্লাঙ্কেটের ৯ বলে অপরাজিত ২৭ রানই যার প্রমাণ বহন করছে। বোলারদের রান খরচে সবাই উদার হস্ত ছিলেন। মিরাজ ৬৭ রানে দুটি, সাইফউদ্দিন ৭৮ রানে দুটি, মাশরাফি ৬৮ রানে একটি, মুস্তাফিজ ৭৫ রানে একটি উইকেট নেন। আর সাকিব ৭১ রানে উইকেটশূন্য ছিলেন।