ক্রিকেটে মুখরিত কার্ডিফ

শামীম হামিদ, কার্ডিফ (ওয়েলস) থেকে

বাংলাদেশ ইংল্যান্ড ম্যাচ দেখতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ক্রিকেট পাগল কার্ডিফে ছুটে এসেছেন। গত দুদিন ট্রেন ও বাস স্টেশনগুলোতে প্রচুর ভিড় ছিল। ভিড়ের মাঝে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সমর্থক দল বার্মি আর্মিরা যেমন ছিলেন তেমনি ছিলেন লাল সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে প্রচুর বাংলাদেশি সমর্থকও।

পর্যটকের চাপ সামাল দিতে স্টেডিয়ামের আশপাশের আবাসিক হোটেলগুলোকে হিমশিম খেতে হয়েছে। বলতে গেলে কোনো হোটেলেই রুম খালি ছিল না। তাই কদর বেড়ে গিয়েছিল হোস্টেলগুলোর। হোস্টেলে থাকার সুবিধা অসুবিধা দুটিই আছে। সুবিধা হলো, সিট ভাড়া হোটেলের তুলনায় অনেক কম। হোটেলের রুম ভাড়া যেখানে বাংলাদেশি টাকায় কমপক্ষে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা সেখানে অর্ধেক বা তার চেয়ে কম ভাড়ায় হোস্টেলে থাকা যায়।

অনেক হোস্টেলে সিট ভাড়ার সাথে সকালের নাস্তা ফ্রি খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে হোস্টেলে থাকার অসুবিধা হচ্ছে, একটা বড় রুমে অনেকগুলো বিছানা থাকে। কোনো কোনো রুমে ১০-১২ জন পর্যন্ত থাকতে পারে। সবার কাছেই রুমের কমন চাবি দেয়া থাকে। অচেনা লোকজনের সাথে এক রুমে রাত কাটাতে যারা অস্বস্তি বোধ করেন তাদের কাছে এই ব্যবস্থা ভালো লাগবে না। এছাড়া অনেক হোস্টেলের নিচের তলায় রয়েছে বার, যা অনেকে পছন্দ নাও করতে পারেন।

সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব বারে খানাপিনা চলে। একই সাথে চলে গানবাজনা। খেলা দেখতে আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে হোস্টেলে থাকার আগ্রহ কম। যারা হোটেলে রুম পাননি তারা আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের বাসায় উঠেছেন। তবে ইংরেজরা এসবের পরোয়া করে না। তারা নারী-পুরুষ দল বেঁধে খেলা দেখতে আসে। এক বা দুই রাত হোস্টেলে কাটিয়ে ফের যার যার গন্তব্যে ফিরে যায়।   এবার কার্ডিফের ক্রিকেট প্রসঙ্গ। কার্ডিফের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে স্বচ্ছ জলের টাফ নদী। নদীর দুই তীরে সোফিয়া গার্ডেনস ও বিউটি পার্ক। সোফিয়া গার্ডেনসের অপরূপ নৈসর্গিক পরিবেশে কার্ডিফ স্টেডিয়ামের অবস্থান যেখানে ১৫ হাজার ২০০ দর্শক একসাথে খেলা দেখতে পারেন। দুটি সুবিশাল পার্ক ও নদীর কারণে পুরো এলাকাজুড়ে সারাক্ষণ প্রাণ জুড়ানো বাতাস বইতে থাকে যা স্টেডিয়ামে আসা দর্শকদের বাড়তি পাওনা।

কার্ডিফ সিটি সেন্টার থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব বড়জোর ৩০০ মিটার। উইকএন্ডে খুব রমরমা অবস্থা থাকে সিটি সেন্টারের। সারা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা শেষে প্রচুর লোকজন এখানে আসে আমোদ-ফুর্তি করতে। শপিং মলগুলোতে লোকজন গিজগিজ করে। রেস্টুরেন্ট, বারগুলোতে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। ক্যাসিনোতে মাঝরাত পর্যন্ত জুয়া খেলা চলে। দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচের ইতিহাস তেমন একটা পুরানো নয় কার্ডিফে। এই মাঠে প্রথম কাউন্টি ম্যাচটি হয়েছিল মাত্র ১৯৬৭ সালে। আইসিসির কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পর কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ভেন্যুর মর্যাদা লাভ করে। ওই আসরে একমাত্র ম্যাচে অংশ নিয়েছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গত দুটি আসরের অন্যতম ভেন্যু ছিল কার্ডিফ।

দীর্ঘ ২০ বছর পর এবার ফের কার্ডিফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের আসর বসেছে। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডসহ বিশ্বকাপের মোট চারটি ম্যাচ হবে এই মাঠে। যদিও প্রতিবেশী ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্মভূমি। তাই কাছের প্রতিবেশী ওয়েলসের সংস্কৃতিতেও ক্রিকেট মিশে আছে অঙ্গাঙ্গিভাবে। এখানকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে ক্রিকেট খেলা হয়। তবে ওয়েলস ক্রিকেটের তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য করা হয় রাজধানী কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসের এই স্টেডিয়ামকে যা গ্ল্যামারগন কাউন্টি টিমের হোমগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত। কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম ক্রিকেটের বিশ্ব মোড়লদের জন্য খানিকটা অপয়াই বলা যায়। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মত বড় বড় দল বিভিন্ন সময় ধরাশায়ী হয়েছে এখানে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়ান্টকে হারিয়েছিল। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে এসেছিল আরেক সাফল্য। ওই একই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান।