বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম এখন গো-চারণ মাঠ

দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একমাত্র স্টেডিয়াটি। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে এই খেলার মাঠটি।

জানা গেছে, দীর্ঘ ১০ বছর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি না হওয়ায় বছরের পর বছর ক্রীড়াঙ্গনে বিরাজ করছে স্থবিরতা। স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে দিন রাত চলে বখাটেপনা, তাস-জুয়ার আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপ। নেই খেলাধুলার পরিবেশ। 

সূত্র জানায়, বেগমগঞ্জের শিশু-কিশোর খেলাধুলার একমাত্র স্থান বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম। যা বেশির ভাগ সময় থাকে তালাবদ্ধ। স্টেডিয়াম ভবনটি নির্মাণের পর থেকে আর সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে নোংরা পরিবেশ, খেলোয়াড়দের জন্য নির্মিত ওয়াশ রুম, বিশ্রাম রুম ও টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। ভবনটি ভেঙ্গে পড়ে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। মাঠ ভর্তি ঘাসের কারণে পুরো মাঠ পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় কোন টুর্নামেন্টও হচ্ছে না। স্থানীয় শিশু-কিশোররা নিজ উদ্যোগে খেলাধুলার জন্য স্টেডিয়ামে আসলেও পরিবেশ না থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারে না।

দ্রুত স্টেডিয়ামটি মেরামত ও খেলার পরিবেশ সৃষ্টির দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় খেলোড়ায়, অভিভাবক ও সচেতন মহল।

উপজেলার ক্রীড়া সংগঠক আনোয়ার হোসেন জন্টু বলেন, ‘যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। আমাদের নেতারা, সরকারি কর্মকর্তারা শুধু মুখেই বলেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, কিন্তু মাদক থেকে দূরে রাখতে কিশোর-তরুণদের খেলাধুলার পরিবেশ দিতে হবে।’

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব চৌমুহনী পৌর মেয়র খালেদ সাইফুল্যাহ বলেন, ‘আমি পদাধিকার বলে সদস্য সচিব হলেও বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম কে চালায় তা আমার জানা নেই। আমি মেয়র হয়েছি পর্যন্ত কেউ এখনে এ বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। আমার কাছে সহযোগীতা চাইলে যে কোন প্রয়োজনে সহযোগীতার জন্য আমি প্রস্তুত রয়েছি। আর আমিও খোঁজখবর নেবো, স্টেডিয়ামের পরিবেশ ফিরিয়ে এনে কিশোর তরুণদের খেলাধুলায় মনোযোগী করতে পারলে আমাদের সমাজের জন্য অনেক উপকার হবে। তারা মাদক থেকে ফিরে মানব সেবায় উদ্বুদ্ধ হবে।’

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামছুন নাহার জানান, আমরা বিষয়টি ইতিমধ্যে জেনেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে স্টেডিয়াম সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বেগমগঞ্জবাসীর খেলাধুলার সুবিধার্থে ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার উপজেলার গনিপুরে স্টেডিয়ামটি স্থাপন করে।